13
Sharesপেনাল্টি শট পেয়ে কাজে লাগাতে পারলেন না লিওনেল মেসি। প্রথম আধা ঘণ্টায় আরও দুবার নিশ্চিত সুযোগ পেয়েও হতাশ করলেন তিনি। সমর্থকদের কপালে হয়তো ভাঁজ পড়তে শুরু করেছিল। তবে, নতুন ইতিহাস গড়ার দুয়ারে দাঁড়িয়ে খুব বেশি সময় নিলেন না সময়ের সেরা তারকা। দারুণ এক গোলে গড়লেন রেকর্ড, দলকে দেখালেন পথ। অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে শেষ বত্রিশে জায়গা পাকা করল আর্জেন্টিনা।
ডালাসে সোমবার ‘জে’ গ্রুপের ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রথম গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন মেসি। পরে দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি।
চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও, বাস্তবে তেমন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি অস্ট্রিয়া। এমনকি পিছিয়ে পড়ার পরও, মরিয়া হয়ে আক্রমণ শাণাতে দেখা গেল না তাদের। বরং দ্বিতীয় গোলটি তারা হজম করে রক্ষণে গড়বড় করে।
পজেশন রাখায় দুই দল কাছাকাছি অবস্থানে থাকলেও, আক্রমণে আধিপত্য করে আর্জেন্টিনাই। গোলের জন্য তাদের ১২ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল, অস্ট্রিয়ার ছয় শটের একটি লক্ষ্যে থাকে।
দুই ম্যাচে শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে অস্ট্রিয়া।
জর্ডান ও আলজেরিয়া একটি করে ম্যাচ খেলে এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি।
রেকর্ডের হাতছানিতে মাঠে নেমে শুরুতেই সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান মেসি। দারুণ এক আক্রমণে একা ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন লাউতারো মার্তিনেস এবং দুই পাশ থেকে দুই ডিফেন্ডার তাকে কড়া ট্যাকলে ফেলে দেন। পরে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি।
কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে শট নেন আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা মেসি। যেদিকে তিনি দুর্বল শট নেন, সেদিকে ঝাঁপিয়েছিলেন গোলরক্ষকও।
বিশ্বকাপে তখন পর্যন্ত মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের মালিক মেসি। প্রতিযোগিতাটিতে এই নিয়ে মোট সাতবার স্পট কিক নিয়ে তিনবার ব্যর্থ হলেন তিনি, অন্যথায় গোলের সংখ্যাটা আরও বড় হতো।
এর আগে সবশেষ তিনি পেনাল্টিতে লক্ষ্যভেদ করতে ব্যর্থ হন কাতার বিশ্বকাপে; গ্রুপ পর্বে তৃতীয় ম্যাচে, পোল্যান্ডের বিপক্ষে।
১৯তম মিনিটে আবার হতাশ করেন মেসি। মার্তিনেসের পাস ডি-বক্সে পেয়ে শট নিতে এক মুহূর্ত দেরি হয়ে যায় তার, কিছুটা যেন ভারসাম্য হারিয়ে বলে একটা বাড়তি টোকাও দিয়ে বসেন তিনি, তাতেই মিস হয়ে যায় নিশ্চিত সুযোগটা।
মেসির ওই দুই ব্যর্থতার মাঝে ও পরে অস্ট্রিয়াও বেশ ভালো কয়েকটি আক্রমণ করে; তবে আর্জেন্টাইন রক্ষণ ছিল মজবুত। প্রথম আধা ঘণ্টায় দুইবার কর্নার পেলেও, উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারেনি তারা।
গোলরক্ষকের একটু ভুলে ৩১তম মিনিটে আবার ডি-বক্সে বিপজ্জনক জায়গায় বল পান মেসি। কিন্তু গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট নেন তিনি।
অবশেষে ৩৮তম মিনিটে সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটান মেসি, লেখেন নতুন এক ইতিহাস। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সের মুখে পাস বাড়ান ফাকুন্দো মেদিনা, মাঝপথে দারুণভাবে ডামি করে বল ছেড়ে দেন থিয়াগো আলমাদা, এবং চোখের পলকে ছুটে গিয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রেকর্ড আটবারের বর্ষসেরা ফুটবলার।
বিশ্বকাপে তার মোট গোল হলো ১৭টি, ছাড়িয়ে গেলেন জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার ক্লোসাকে।
ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে টানা ছয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন মেসি। ১৯৫৮ আসরে প্রথম রেকর্ডটি গড়েন ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন এবং ১৯৭০ আসরে ব্রাজিলের জাইরজিনিয়ো।
প্রথমার্ধে কেবল দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিতে পারা অস্ট্রিয়া দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে। মিডফিল্ডার মার্সেল সাবিৎজারের ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে আটকে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেস।
এই অর্ধের শুরু থেকে খেলার গতি কিছুটা কমে আসে। ব্যবধান ঘোচানোর জন্য অস্ট্রিয়ানদের মাঝে তেমন মরিয়া ভাবও দেখা যায়নি। সাবিৎজারের ওই শটের পর তাদের আর কোনো প্রচেষ্টাই লক্ষ্যে থাকেনি।
যোগ করা সময়ে ডি-বক্সে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগের লেজেগোবরে পাকানোর সুযোগে ব্যবধান বাড়ান মেসি। গোলটির উৎসও তিনি।
তার পাস ধরে হুলিয়ান আলভারেসের নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক, ফিরতি বল ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়ে পারেনি কেউ, ছুটে এসে শট মেসির নেওয়া প্রথম শট প্রতিহত হয়, তখনও ছিল ক্লিয়ার করার সুযোগ। তাদের ব্যর্থতায় ফিরতি বল ধরে কোনাকুনি শটে আসরে দলের ও নিজের পঞ্চম গোলটি করেন মহাতারকা।
বিশ্বকাপে মেসির গোল হলো ১৮টি। জাতীয় দলের হয়ে আর্জেন্টিনার রেকর্ড স্কোরারের এখন মোট গোল ১২২টি, ২০১ ম্যাচে।
গ্রুপ পর্বের শেষ দিন, বাংলাদেশ সময় আগামী রোববার সকালে জর্ডানের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। একই সময়ে মুখোমুখি হবে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া।
ওয়াইএফ/০১