15
Sharesজ্বালানির তেলের পর এবার পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিইআরসি, যাতে সাধারণ গ্রাহকের খরচ বাড়ছে ১৬.৭ শতাংশ।
পাইকারি বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা থেকে ১ টাকা ৩১ পয়সা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩১ পয়সা করা হয়েছে। এতে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সঞ্চালন মূল্যহার বা হুইলিং চার্জ ইউনিটপ্রতি ৩১ দশমিক ৩৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৮ দশমিক ৮৬ পয়সা করা হয়েছে। এতে সঞ্চালন চার্জ বেড়েছে ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
আর খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন গ্রাহকশ্রেণির বিদ্যুতের ভারিত গড় মূল্য ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে খুচরা পর্যায়ে গড় দাম বেড়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় কমিশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেন।
| গ্রাহকের ধরন | আগের দর | নতুন দর | বৃদ্ধি |
| সাধারণ গ্রাহক | ৯ টাকা ১১ পয়সা | ১০ টাকা ৬৩ পয়সা | ১৬.৭% |
| পাইকারি | ৭ টাকা | ৮ টাকা ৩১ পয়সা | ১৮.৭% |
| সঞ্চালন | ৩১.৩৫ পয়সা | ৩৮.৮৬ | ২৪% |
তিনি জানান, নতুন দাম জুন মাসের বিল থেকে কার্যকর হবে। গ্রাহকশ্রেণিভিত্তিক বিদ্যমান ডিমান্ড চার্জ অপরিবর্তিত থাকছে।
নতুন খুচরা মূল্যহার অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন বা ০ থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১৮ পয়সা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটে ৮ টাকা ৫০ পয়সা, তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটে ৯ টাকা ১০ পয়সা, চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটে ৯ টাকা ৬২ পয়সা, পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটে ১৫ টাকা ১ পয়সা এবং ষষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহারে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পের জন্য নিম্নচাপে ইউনিটপ্রতি দাম ৬ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক ও অফিস গ্রাহকদের নিম্নচাপে ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ১৫ টাকা ৩৬ পয়সা, অফ পিকে ১৩ টাকা ৮২ পয়সা এবং পিকে ১৮ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কমিশন বলেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, ক্রয় ও আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে পিডিবিকে সরকারের ভর্তুকি এবং সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাম বাড়ানোর পরও পিডিবির অবশিষ্ট ঘাটতি মেটাতে বছরে সরকারকে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ১৮ এপ্রিল চার ধরনের তেলের দাম বাড়ায় সরকার। মে মাসে আর না বাড়ালেও জুনে এসে আবার ডিজেল বাদে বাকি তিন ধরনের তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলে বাড়ানোর পর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। অবশেষে বুধবার দাম বাড়ানো হল।
সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি বিদ্যুতের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তখন গড় পাইকারি মূল্য ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।
পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়লে বিতরণ কোম্পানিগুলোর ক্রয় ব্যয়ও বাড়ে। সে কারণে খুচরা পর্যায়ের বিদ্যুতের দামেও পরিবর্তন আসে।
পিডিবি গেল ৩ মে পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি ৫ মে সঞ্চালন মূল্যহার বাড়ানোর আবেদন করে।
খুচরা পর্যায়ে মূল্যহার পরিবর্তনের জন্য পিডিবি ও নেসকো ৩ মে, ডেসকো ৪ মে, ওজোপাডিকো ৫ মে এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও ডিপিডিসি ৬ মে কমিশনে প্রস্তাব জমা দেয়।
এসব প্রস্তাবের ওপর ২০ ও ২১ মে গণশুনানি করে বিইআরসি।
গণশুনানিতে পিডিবি জানিয়েছিল, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ সরবরাহের গড় ব্যয় ইউনিটপ্রতি ১২ টাকা ৯১ পয়সা হতে পারে। তখনকার পাইকারি মূল্য ছিল ইউনিটপ্রতি ৭ টাকা।
দাম সমন্বয় না হলে ঘাটতি আরও বাড়বে বলে শুনানিতে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
ওয়াইএফ/০১