20
Sharesমার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, গত রাতে হরমুজ প্রণালিতে টহল দেওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। তিনি এই ঘটনার পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'আমাদের বীর সামরিক বাহিনী আমাকে এইমাত্র জানিয়েছে যে, গত রাতে হরমুজ প্রণালির ওপর টহল দেওয়ার সময় ইরানিরা আমাদের একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।'
তিনি বলেন, এই ঘটনায় হেলিকপ্টারে দুই মার্কিন পাইলটই নিরাপদে আছেন এবং তারা কোনো আঘাত পাননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, 'তা সত্ত্বেও, যুক্তরাষ্ট্রকে এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে হবেই।'
তার এই বক্তব্যের ফলে উপসাগরীয় যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গত ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
এর আগে সোমবারই ইসরায়েল ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছিল। গত এপ্রিলের পর এই প্রথম দুই দেশ সরাসরি সঙ্ঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর ট্রাম্পের আবেদনে সাড়া দিয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে তেহরান সতর্ক করে বলে দিয়েছে, ইসরায়েল যদি লেবাননে তাদের মিত্র হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তারা আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
সোমবারের এই উত্তেজনার ফলে সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ থামানো ও হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করার জন্য শান্তি চুক্তির প্রচেষ্টায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি ড্রোনের মাধ্যমে উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্য 'ভালো' আছেন। তবে অ্যাপাচিটি কীভাবে ভূপাতিত হলো সে বিষয়ে তখন তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সারফেস ড্রোন ওই দুই ক্রুকে খুঁজে বের করে উদ্ধার করেছে। এটি এ ধরনের প্রথম কোনো উদ্ধার অভিযান বলেও জানান মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বিধ্বস্ত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মুখপাত্র নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, উদ্ধারকৃত মার্কিন সেনাদের প্রথমে পানির ওপর অন্য একটি স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আরও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আগে তাদের একটি হেলিকপ্টারে তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে তেহরানে আগেরদিন ইসরায়েলি হামলায় নিহত দুই ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার বিকেলে দাফন করার কথা রয়েছে বলে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। তবে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন সেনাবাহিনীর অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি ওমান উপকূল ও হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি টহল দিচ্ছিল। যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান প্রথমে প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে এবং এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস হেলিকপ্টারটির ভূপাতিত হওয়ার খবর প্রথম প্রকাশ করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গানশিপ অস্পষ্ট পরিস্থিতিতে বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এর দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের সর্বশেষ নজির।
গত মাসে প্রকাশিত কংগ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক অপারেশন এপিক ফিউরি নাম দেওয়া এই যুদ্ধে ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি যুধবিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর মধ্যে এপ্রিলের শুরুতে গুলি করে ভূপাতিত করা একটি এফ-১৫ই ফাইটার জেট রয়েছে। ওই যুদ্ধবিমানের একজন মার্কিন বৈমানিককে ইরানি ভূখণ্ড থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। তার আগের মাসে ইরাকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন সেনাসদস্য নিহত হন।
ওয়াইএফ/০১