16
Sharesপ্রথম ওয়ানডেতে ৪ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিয়েছিলেন নাহিদ রানা। দ্বিতীয় ম্যাচে তাই তার দিকে বাড়তি নজর থাকাটা স্বাভাবিক ছিল। শেষ পর্যন্ত উইকেটশূন্যই থেকেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। তবে স্কোরকার্ডে ধরা না পড়লেও ম্যাচে তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি নাহিদ। পরিসংখ্যান বিচারে এটি হয়তো খুব সাধারণ মানের বোলিং। কিন্তু ম্যাচের ভেতরের গল্প বলছে অন্য কথা।
প্রথম ম্যাচে নাহিদের গতি, বাউন্স ও আক্রমণাত্মক বোলিং অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল। ম্যাচ শেষে অ্যালেক্স ক্যারিও স্বীকার করেছিলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একজন ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার আলাদা প্রস্তুতি থাকাটা অনুমান করা কঠিন নয়।
টসের সময় অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিসও বলেছিলেন, আগের ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে এবং দলকে সব বিভাগেই উন্নতি করতে হবে। সেই উন্নতির অন্যতম লক্ষ্য যে নাহিদকে সামলানো, ম্যাচের চিত্রে সেটিরও প্রতিফলন দেখা গেছে।
উইকেট না পেলেও নতুন বলে শুরুটা ছিল নাহিদের যথেষ্ট হুমকিময়। ধারাভাষ্য অনুযায়ী তিনি নিয়মিত ১৪২ থেকে ১৪৯ কিলোমিটার গতিতে বল করেছেন। বাড়তি বাউন্স আদায় করেছেন, কয়েকবার ব্যাটারদের বিটও করেছেন। বিশেষ করে অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিনকে তার ব্যাক-অব-লেংথ ডেলিভারিগুলো বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
ফাস্ট বোলিংয়ের প্রভাব সব সময় উইকেট কলামে ধরা পড়ে না। অনেক সময় একজন বোলারের কাজ থাকে ব্যাটারকে চাপে রাখা, রান আটকে দেওয়া এবং ভুল করতে বাধ্য করা। নাহিদ এই ম্যাচে সেই ভূমিকাটিই পালন করেছেন।
ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেট হারায় কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই। ওয়ানডে ইতিহাসে যা তাদের সবচেয়ে বাজে সূচনাগুলোর একটি। তখনও নাহিদ রানা বোলিং শুরুই করেননি। কিন্তু ওই উইকেটগুলোতেও ছিল নাহিদের প্রভাব। কারণ অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে নাহিদ রানা নামক জুজুর ভয় কাজ করছিল। তাই উইকেটশূন্য থেকে গেলেও পুরো পেস আক্রমণের অংশ হিসেবে তিনি চাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
ফাস্ট বোলিংয়ে প্রায়ই এমন দেখা যায়, এক প্রান্ত থেকে একজন বোলার চাপ তৈরি করেন, আর অন্য প্রান্ত থেকে আসে উইকেট। স্কোরকার্ডে কৃতিত্ব যায় উইকেট পাওয়া বোলারের নামের পাশে, কিন্তু চাপ তৈরির কাজটি অনেক সময় অদৃশ্যই থেকে যায়।
প্রথম ম্যাচে নাহিদের বলে আউট হওয়া জশ ইংলিসও এবার অনেক বেশি প্রস্তুত হয়ে নেমেছিলেন। শর্ট বলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে খেলেছেন, কিছু বল ছেড়ে দিয়েছেন, আবার সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারিও মেরেছেন। নাহিদের বিপক্ষে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি বুঝে খেলার পথই বেছে নিয়েছিলেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাস্তবতাও এমন। এক ম্যাচে যে অস্ত্র প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলে, পরের ম্যাচে সেই অস্ত্রের প্রতিষেধক খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। নাহিদের ক্ষেত্রেও সেটিই দেখা গেছে।
তবে উইকেট না পাওয়ার কারণে তার বোলিংকে ব্যর্থ বলা কঠিন। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে, বিশেষ করে পাওয়ারপ্লে ও মধ্য ওভারে প্রতি ওভারে ৫ রান খরচ করাকে বেশ গ্রহণযোগ্যই ধরা হয়। নাহিদ ৯ ওভারে দিয়েছেন ৪৫ রান। অর্থাৎ তিনি প্রতিপক্ষকে সহজে রান তোলার সুযোগ দেননি।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে নাহিদের গল্পটি উইকেট না পাওয়ার নয়। বরং এমন এক বোলারের, যাকে ঘিরে প্রতিপক্ষকে আলাদা পরিকল্পনা করতে হচ্ছে, যার উপস্থিতি ব্যাটারদের আরও সতর্ক করে তুলছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটি নতুন এক বাস্তবতা। নাহিদ হয়তো এদিন শিকারি হতে পারেননি, কিন্তু শিকারকে চাপে রাখার কাজটি করেছেন সফলভাবেই। আর একজন এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলারের মূল্যায়নে অনেক সময় সেই অদৃশ্য প্রভাবটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াইএফ/০১