অর্থ ও বাণিজ্য



দেশদর্পণ ডেস্ক

এপ্রিল / ১৬ / ২০২৬


১৮ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব


14

Shares


ইরানি হামলার জেরে পর্যটক কমে যাওয়ায় বড় ধরনের সংস্কার কাজের জন্য দীর্ঘ ১৮ মাসের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব। মঙ্গলবার হোটেলটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জুমেইরাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্যারিসভিত্তিক স্থপতি ট্রিস্টান আউয়ারের নেতৃত্বে এই বহু প্রতীক্ষিত সংস্কার কাজ কয়েক ধাপে সম্পন্ন করা হবে।

বিবৃতিতে পালতোলা নৌকার আদলে তৈরি এই বিলাসবহুল হোটেলটি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোটেলের এক কর্মী জানিয়েছেন, সংস্কার চলাকালীন এটি বন্ধ থাকবে এবং যেসব পর্যটক ইতোমধ্যে বুকিং দিয়েছেন, তাদের পাশের অন্যান্য হোটেলে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

বুর্জ খলিফা এবং পাম আইল্যান্ডসের মতো বুর্জ আল আরবও দুবাইয়ের অন্যতম আইকনিক স্থাপনা। তবে গত মার্চ মাসে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকানোর সময় আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে হোটেলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

জুমেইরাহ তাদের বিবৃতিতে ইরান যুদ্ধের কথা সরাসরি উল্লেখ না করলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন ঘাঁটি থাকা আরব আমিরাত ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের উপর্যুপরি হামলার কারণেই বিদেশি পর্যটক ও প্রবাসীরা এই অঞ্চল ছাড়তে শুরু করেছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর এই সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধের মাত্র এক মাসের মাথায় দুবাই ও আবুধাবি স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন থেকে ১২০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ মুছে গেছে এবং ১৮ হাজার ৪০০-এর বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে দুবাই নিজেকে ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই ভাবমূর্তি মারাত্মক সংকটে পড়েছে। সৌদি আরব বা ওমানের পুঁজিবাজার তেলের চড়া দামের কারণে লাভবান হলেও পর্যটন, রিয়েল এস্টেট ও অর্থের ওপর নির্ভরশীল আমিরাতের বিশ্বায়িত অর্থনৈতিক মডেল সরাসরি সংকটে পড়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৮ মার্চ পর্যন্ত ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন এবং ১৫টি ক্রুজ মিসাইল ছুড়েছে। এর ফলে ইসরায়েলের পর আমিরাত এখন ইরানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। যদিও এসব হামলার বেশিরভাগই মাঝ আকাশে রুখে দেওয়া হয়েছে, তবুও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষে আবুধাবি ও দুবাইয়ের বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


মিডল ইস্ট আই/ওয়াইএফ-০১

অর্থ ও বাণিজ্য