203
Sharesসিলেটে দীর্ঘদিন থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের নামে চলছে ‘তামাশা’। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে টাকার বিনীময়ে দেয়া হচ্ছে অবৈধ সুবিধা। সেই সাথে উপেক্ষিত হচ্ছে সরকারি নির্দেশনা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তদারকির অভাবে এমন কর্মকান্ড চলছে। গত ২দিন আগে সিলেটের ব্রিটেনিয়া হোটেল থেকে ৯জন পালিয়ে যাওয়া ও লা ভিস্তা হোটেল বিয়ের আয়োজন নিয়ে সিলেটে তোলাপড় চলছে। এমনকি সিলেটে কোয়ারেন্টিনে থাকাবস্থায় প্রবাসীরা কেনাকাটাসহ স্বজনদের সাথে ঘুরে বেড়াতেও দেখা গেছে।
প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার পরেও সরকারের দেয়া নির্দেশনা না মেনে প্রবাসীদের সাথে নিয়মীত দেখা করছেন আত্মীয়স্বজনরা। প্রবাসীদের এসব অবৈধ সুযোগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে হোটেলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কতিপয় পুলিশ সদস্য ও হোটেলের কর্মকর্তারা। সিলেটের দুটি ঘটনার পর অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য কঠোর হচ্ছে জেলা প্রশাসন। লা ভিস্তা হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়োরেন্টিনে থাকার পরেও বিয়ের আয়োজন করার সত্যতা পেয়েছে জেলা প্রশাসন।
সিলেট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার শাম্মা লাবিবা অর্ণব বলেন, সরকারের নির্দেশনা না মানায় ইতোমধ্যে হোটেল ব্রিটেনিয়ার সাথে জেলা প্রশাসনের যে চুক্তি ছিলো তা বাতিল করা হয়েছে। সেই সাথে লামাবাজারের লা ভিস্তা হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় লন্ডন প্রবাসী এক যুবক বিয়ে করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, আম্বরখানার হোটেল ব্রিটেনিয়া থেকে ৯জন লন্ডন প্রবাসী রহস্যজনকভাবে সিলেটের জকিগঞ্জে চলে যান গত ২১ মার্চ। সেখানে দুপুরের খাবারের পর তারা দীর্ঘসময় অবস্থান করেন। এরপর বিকেলে পর্যন্ত হোটেলে না ফেরায় কর্তৃপক্ষের মধ্যে দেখা দেয় আতঙ্ক। পরে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপে ৯জন প্রবাসী রাত ৮টার দিকে হোটেলে আসেন। এরপর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৬জনকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ঘটনায় সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওইদিন রাতেই হোটেল ব্রিটেনিয়ার সাথে প্রশাসন চুক্তি বাতিল করেছে। তবে এখনও পর্যন্ত ওই হোটেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের বিরুদ্ধে কোন ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অপরদিকে, গত শনিবার (২০ মার্চ) রাতে সিলেটের লামাবাজার ‘হোটেল লা-ভিস্তা’র অভ্যন্তরে লন্ডন ফেরত এক প্রবাসী কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বিয়ে করেছেন। বর হোটেল অবস্থান করলেও কনেকে বাহির থেকে সাজিয়ে নিয়ে আসেন কনে পক্ষের লোকজন। রাতভর চলে খানাপিনা এবং বর-কনের ফটোসেশন। প্রশ্ন উঠেছে ওই হোটেলের নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা রয়েছেন তারা কি টাকার বিনীময়ে কোয়ারেন্টিনে থাকা প্রবাসীর নেপথ্যেকারী হিসেবে কাজ করেছেন?
জানা যায়, গত ১৮ মার্চ লন্ডন থেকে সিলেটে আসা যাত্রীদের মধ্যে ১১ জনকে সিলেটের লামাবাজারস্থ হোটেল লা-ভিস্তায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এদের মধ্যে দুইজন হলেন সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার জাঙ্গাইল এলাকার বাসিন্দা এক নারী (৪৮) ও মুহি উদ্দিন (২৮)। মা অবস্থান করেন ৪০১ নম্বর কক্ষে আর তার ছেলে অবস্থান করেন ৪০৬ নম্বর কক্ষে। নিয়ম অনুযায়ী তারা সব ধরণের জনসমাগম এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নির্ধারিত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা থাকলেও লা-ভিস্তা হোটেলে স্টেজ ঘটা করে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ে উপলক্ষে কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় বাইরে বের হয়ে কেনাকাটাও করেছেন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা যুক্তরাজ্য প্রবাসি যুবকের মা। যার পুরোটাই হয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে।