সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ / ২২ / ২০২১


করোনার ‘থার্ড ওয়েভের’ আশঙ্কা : কতটা প্রস্তুত সিলেট!


224

Shares
ভ্যাকসিন গ্রহণ করলেও হঠাৎ করে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত। সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও দিনের পর দিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত ১ সপ্তাহ ধরে সিলেটে আক্রান্তের সংখ্যা ১ থেকে ৯ এর মধ্যে থাকলেও সোমবার (১৫ মার্চ) এক সাথে ৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যা গত প্রায় এক মাসেও হয়নি। হঠাৎ করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় থার্ড ওয়েভের আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেজ্ঞরা। 
 
দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শঙ্কা প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক এবিএম খুরশীদ আলম বলেছেন, সম্প্রতি যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই তরুণ-যুবক। আক্রান্তদের অনেককেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা লাগছে। সংক্রমণের ভয়াবহতার বর্ণনায় স্বাস্থ্যের ডিজি বলেন, গত দুই মাসে আমার কাছে কখনোই আইসিইউ বেডের জন্য কোনো অনুরোধ আসে নাই। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে ফোন পাচ্ছি আইসিইউ বেড পাওয়া যাচ্ছে না, দেন।  তিনি জানান, আগে বৃদ্ধ ও দীর্ঘদিন ধরে রোগে ভোগাদের আইসিইউতে নেওয়া লাগত। এখন তরুণ সুস্থরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদেরকে আইসিইউতে নেওয়া লাগছে। 
 
সবাইকে সতর্ক করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘গেল দুই মাস আমরা স্বস্তিতে ছিলাম, তাই এখন আমরা কোনো কিছু মানছি না। সামনের দিকে আমরা আরও বড় বিপদে পড়তে যাচ্ছি যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি না মানি।’ 
 
তিনি বলেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমতে কমতে একপর্যায়ে ৩ শতাংশের নিচে নেমে আসে। এর মধ্যে সারা দেশে করোনাভাইরাসের টিকাদানও শুরু হয়। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শনাক্তের হারও বাড়তে থাকে। ৯ মার্চ তা আবার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। শুক্র ও শনিবার দৈনিক শনাক্তের হার ছিল ৬ শতাংশের বেশি। এক সপ্তাহে দেশে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে ৬৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। মৃত্যু বেড়েছে ৪৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
 
এদিকে সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও বাড়ছে করোনা আক্রান্ত। বয়সের দিকে তারাও যুবক-তরুণ। তাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। 
 
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, করোনার সংক্রমণ ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে টেস্ট বাড়ানো, রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন, ট্রেসিং (রোগীর সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত), তাদের কোয়ারেন্টিন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য প্রচারণা বাড়ানো এবং স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন তারা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য কর্মজীবী জনগণকে সহায়তা দিতে হবে।
 
করোনা থার্ড ওয়েভ মোকাবেলায় কতটা প্রস্তুত সিলেট। এনিয়ে কথা বলেন ওসমানী হাসপাতালের উপ-পরিচালক হিমাংশু লাল রায়। তিনি বলেন, সিলেটের দুটি ল্যাব সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রয়েছে। তাছাড়াও সকল মেশিনারী জিনিস নতুন করে আবাও চেক করা হচ্ছে। কোন সমস্যা দেখা দিলে তা তাৎক্ষণিক ঠিক করার জন্য লোকবলও রয়েছেন। 
 
হিমাংশু লাল রায় বলেন, করোনা রোগীদের জন্য ডিডিকেটেড ১৮টি আইসিইউ ও ২টি ডায়ালাইসি রয়েছে। ১৪টি ভেন্টিলেশন রয়েছে। এছাড়াও শহীদ সামসুদ্দিন হাসপাতালের সিট সংখ্যা তো আছেই।

সিলেট প্রতিক্ষণ