17
Shares
|
|
|
ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ায় কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি শিশু এই সপ্তাহে স্কুলে যেতে পারেনি। সাধারণত যে পথ ব্যবহার করে তারা স্কুলে যেত, সেটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার হেবরন শহরের কাছে উম্ম আল-খাইর নামের ছোট একটি গ্রামে কয়েক ডজন শিশু স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো তারা স্কুলে ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা দেখতে পায়, তাদের চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কাছাকাছি কারমেল বসতি থেকে আসা ইসরায়েলিরাই এই বেড়া দিয়েছে।
উম্ম আল-খাইর গ্রামের পরিষদপ্রধান খলিল হাতালিন বলেন, গ্রামের প্রান্তিক এলাকা থেকে আসা শিশুদের জন্য নিরাপদ যে উপত্যকার পথটি ছিল, সেটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাদের এখন একটি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক দিয়ে যেতে হবে, যা বসতির কাছাকাছি হওয়ায় নিরাপদ নয়।
![]()
তিনি বলেন, “আমাদের শিশুরা সব সময় যে মূল পথ ব্যবহার করে এসেছে, আমরা সেটিই ব্যবহার করতে চাই।” তাঁর অভিযোগ, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বসতি সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই জমি দখল করতে চাইছে।
ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা B'Tselem জানিয়েছে, এই কাঁটাতারের বেড়া বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার অংশ, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের ভয় দেখানো এবং তাদের জমি ছাড়তে বাধ্য করা। সংস্থাটি এটিকে “জাতিগত নিধন”-এর সামিল বলে উল্লেখ করেছে।
রয়টার্স যাচাই করা ১৩ এপ্রিল ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নতুন বসানো কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ছেলে-মেয়েরা দাঁড়িয়ে ও বসে আছে। স্থানীয়দের দাবি, পরে ইসরায়েলি সেনারা টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করলে কয়েকজন শিশু শ্বাসকষ্টে ভোগে। অনেকেই জানান, শিশুদের অবস্থা শ্বাসরোধের মতো হয়ে পড়েছিল। ভিডিওতে ধোঁয়া উঠতেও দেখা যায়।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর সময় ক্লাস স্থগিত ছিল। ওই সময় ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে এর ধ্বংসাবশেষ কখনো কখনো পশ্চিম তীর এলাকায় পড়েছে।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়ছে বিধিনিষেধ
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সোমবার কারমেল বসতির নিরাপত্তা ঘেরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ফিলিস্তিনিকে ছত্রভঙ্গ করতে ‘দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের’ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তারা স্বীকার করে, সেখানে শিশু উপস্থিত ছিল, তবে তাদের লক্ষ্য করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
পশ্চিম তীরের বসতি স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিল জানিয়েছে, কারমেল এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বাধা তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিকল্প পথ রয়েছে।
স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি-প্যালেস্টাইনি যৌথ দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও এখনো কাঁটাতারের বেড়া সরানো হয়নি।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী Hamas-এর হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলে বিধিনিষেধ বেড়েছে। এরপর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরজুড়ে অসংখ্য নতুন চেকপয়েন্ট স্থাপন করেছে এবং স্থায়ী ও অস্থায়ী সড়ক অবরোধ তৈরি করেছে।
পশ্চিম তীরে প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি প্রায় সাত লাখ ইহুদি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সময়ে বসতি সম্প্রসারণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারের অনেক জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী প্রকাশ্যেই পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করার পক্ষে মত দিচ্ছেন।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিকে অবৈধ বলে মনে করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে পশ্চিম তীরকে দেখতে চায়।
এদিকে ফিলিস্তিনি সম্পত্তিতে হামলাসহ বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও বেড়েছে, যা ইসরায়েলের কিছু মিত্র দেশের সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ঘটনার জন্য ‘সীমিত কিছু উগ্র গোষ্ঠী’ দায়ী। একই সময়ে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকেও বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্স থেকে অনুবাদ/ ওয়াইএফ-০১