গণমাধ্যম



দেশদর্পণ ডেস্ক

মার্চ / ৩০ / ২০২১


‘সমকামী’ দুই যুবকের বিয়ে, ছাতক-কোম্পানীগঞ্জে চাঞ্চল্য


164

Shares

দুই যুবকের সমকামের আনুষ্ঠানিক কর্মকাণ্ড ঘিরে সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের ছাতকের কয়েকটি গ্রামে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুরু হয়েছে মুখরোচক আলোচনা। এমনকি উঠেছে নিন্দার ঝড়।

জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত দুই যুবকের একে অপরকে বিয়ের ভিডিও এবং ছবি আপলোডকে কেন্দ্র করে এ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, গত ০১ মার্চ ছাতকের নিজগাঁও গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (২৭) ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বিষকাটালি গ্রামের বাচ্চু ব্যাপারীর ছেলে জিসান আহমেদ ঝোটন (৩২) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে পরস্পরকে বিয়ে করে। রোববার হাবিবুর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও আপলোড করলে দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের মধ্যে এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

ওইদিন দুপুরে হাবিব তার ফেসবুক আইডি থেকে কয়েকটা ছবি ও ভিডিও আপলোড করে তাতে লেখেন, ‘আমার বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি ও ভিডিও।’ সঙ্গে-সঙ্গে তার আইডি ঘেঁটে দেখা যায়, বর হাবিবের পাশে কনের বেশে বসে আছে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণাকারী ঝোটন। এই ঝোটন বছর তিনেক আগে তার এক ভগ্নিপতির সূত্র ধরে এসে নিজগাঁওয়ে থাকতে শুরু করে। নিজের পরিচয় দেয় পিডিটিভির বিভাগীয় প্রতিবেদক হিসেবে; যদিও এই নামে কোনো চ্যানেল নেই। আছে নামেমাত্র একটা নিম্নমানের ম্যাগাজিন।

এছাড়া কখনও সে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা, আবার কখনও র‍্যাবের সোর্স। এসব ভারিক্কি পরিচয় পাকাপোক্ত করতে গলায় ঝোলায় ভিডিও-ক্যামেরা। পকেটে রাখে ওয়াকিটকি। হাত অনেক লম্বা, এটা বোঝাতে তার আইডিতে আপলোড করত র‍্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তোলা ছবি। প্রথম থেকেই কেউ কেউ সন্দেহ করে, এর বিপরীতে বহু সহজ-সরল লোক তাকে সাংবাদিক হিসেবে পাত্তা দিতে শুরু করে। প্রতারণার জাল বিছিয়ে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, এটাই ছিল তার উদ্দেশ্য।

কোম্পানিগঞ্জের জালিয়ারপাড় গ্রামের ব্যবসায়ী বাবুল আহমদের এক লাখ টাকা হজম করে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই ঘটা বুলবুল-হত্যার অভিযোগপত্র থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে। শারফিন টিলার এক ব্যক্তির সঙ্গে জমির জটিলতা নিরসনের কথা বলে চুক্তি করে। এভাবে অনেকের পয়সা হাতিয়ে নেয়।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জের নিজগাঁও থাকাকালে তার আড্ডা ছিল ছনবাড়ি বাজারে হাবিবের দোকানে। ঘন-ঘন আসা-যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে। স্বভাবে অনেকটা হিজড়াদের মত হওয়ায় এবং দু-একটা অপকর্ম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ততদিনে ঝোটনের নিন্দুকের সংখ্যা বেড়ে যায়। লুকিয়ে ডিশের লাইন কাটার পেছনে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগে দ্বন্দ্ব প্রবল হলে তোপের মুখে নদীর ওপারে কোম্পানিগঞ্জের ছনবাড়ি গ্রামে একটা বাসা নিয়ে থাকতে শুরু করে সে। নিজের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম দোকানটি ছেড়ে লোভে পড়ে হাবিবও যায় তার সাথে।

কিছুদিন পরপর দামি বাইক কেনা, কখনও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আবার কখনও ভারতে ঘুরতে যাওয়া, পাঁচ-তারকা রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া; প্রতারণার কল্যাণে এমনই বিলাসিতা ছিল তার জীবনযাপনে। ভ্রমণের কোনো কোনো ছবিতে তাদের মাখামাখি গোছের ঘনিষ্ঠতা দেখা যায়, যা দৃষ্টিকটু। ছনবাড়ি বাসা নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যে (গত বছরের ২৫ ফেব্রয়ারি) ভুয়া সাংবাদিক হিসেবে সে গ্রেপ্তার হয়।

এ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, সে ডাকাতিসহ একাধিক মামলার গ্রেপ্তারাদেশভুক্ত পলাতক আসামি। হাবিব তার বন্ধুর মুক্তির জন্য আদালত থেকে ফরিদগঞ্জ পর্যন্ত ছুটোছুটি করে। অল্পদিনের মধ্যে মুক্তিও মেলে। ফিরে এসে ছনবাড়ি থেকে চলে যায় একই উপজেলার পাড়ুয়া গ্রামে। কিন্তু চলতে থাকে তার প্রতারণা। এরপর সেসব ছবি ও ভিডিও যা থেকে এলাকায় হাসি-ঠাট্টা ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। যা থেকে বোঝা যায় আগে থেকেই হাবিব ঝোটনের কাছে ‘বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু’।

অপরদিকে হাবিবের ফেসবুক আইডি থেকে আপলোড করা ছবি দেখে আপাতদৃষ্টিতে বুঝা কঠিন যে একটা ছেলে-ঘেঁষা ছেলে কনে সেজেছে। তবে বড় করে দেখার পর স্পষ্ট হয় আসল কাহিনী। আর ভিডিওতে দেখা যায় আয়োজন ছিল জাঁকজমকপূর্ণ। আশপাশ ঘিরে রয়েছে আরও বেশ কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। দুজনই এখন ঢাকায় অবস্থান করছে।

যদিও লোকজনের ঠাট্টা ও নিন্দায় ঘাবড়ে গিয়ে দুজনই এখন সুর পাল্টানোর চেষ্টা করছে। হাবিবের ভাই জুয়েল আহমদের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিব্রত হন এবং বলেন, ‘এক পুরুষ আবার আরেক পুরুষকে বিয়ে করে কীভাবে? শুনেছি তারা মজা করার জন্য এমনিই সেজেছিল।’

মঙ্গলবার (০২ মার্চ) রাতে কথা হয় হাবিবের সঙ্গে। সে দাবি করে, তারা একটা ছবির শুটিং করছে।

বিশ্বের বেশ কিছু উন্নত দেশের সর্বোচ্চ আদালত সমকামের আনুষ্ঠানিক রূপের স্বীকৃতি দিলেও বাঙলাদেশে তা নিষিদ্ধ। দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই ধারায় বলা হয়েছে- ‘কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।’

গণমাধ্যম