গণমাধ্যম



দেশদর্পণ ডেস্ক

মার্চ / ৩০ / ২০২১


করোনাকালে অপ্রত্যাশিত বন্ধে শিক্ষক থেকে ব্যবসায়ী সূচী


19

Shares

গেলো বছরের শুরু থেকেই করোনায় পৃথিবী স্তব্দ হয়ে পড়েছিল। সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল প্রাণ-প্রকৃতি। চারদিকে স্বজন হাজারোর আর্তনাদ। আর্তনাদ জীবিকা হারানো মানুষেরও। এমন ভয়াবহ আর ঘরবন্দি পরিস্থিতিতেও কিছু মানুষ সাফল্য পেয়েছেন। বিশেষ করে ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠেছিলেন মানুষের ভরসার কেন্দ্রস্থল। তেমনই এক ই-কমার্স ব্যবসায়ী নিসফাহান আক্তার সূচী।

পেশায় শিক্ষক এ নারী তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যায় মাস্টার্স শেষ করেছেন। তার বাবা মো. সাখাওয়াত হোসেন। মৌলভীবাজার সদরেই তার বাসা। গত পাঁচ বছরে তিনি ৪টা চাকরি পরিবর্তন করেছেন।

গেলো বছরের মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে অখন্ড অবসর পেয়ে যান সূচী। তবে চারদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত-মৃত্যুর খবর অখন্ড অবসরকে বিষন্ন করে তুলছিল তাকে; সময় ফুরোচ্ছিল না। এরমধ্যে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের আমন্ত্রণে যুক্ত হন উইমেন এন্ড ই কমার্স (উই) গ্রুপ এ।

সিলেটের স্কলারসহোম প্রিপারেটরি স্কুলে যোগদানের মাধ্যমে শিক্ষকতা শুরু করের সূচী। তবে মাত্র ১১ মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দিয়ে যোগ দেন (মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক) প্রজেক্ট টিচার হিসেবে। সেই চাকরিতে থাকা অবস্থায় সরকারি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি হয়। পোস্টিং হয় নিজ জেলা মৌলভীবাজারে। তবে দেড় বছরের বেশি এই চাকরি করতে পারেননি সূচী। সবসময় স্বাধীন থাকা এবং উদ্যোক্তা হবার স্বপ্নে বিভোর থাকা এ নারী ফের যোগ দেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে।

তবে করোনার কারণে অপ্রত্যাশিত ছুটি তাকে দেখায় নতুন পথ। নতুন স্বপ্ন। খোঁজ পেয়ে যান নিজের কাঙ্ক্ষিত রাস্তা, শুরু করেন ব্যবসা।

উইমেন এন্ড ই কমার্স (উই) গ্রুপে প্রথম পোস্ট দেখতে শুরু করেন। তবে অনলাইনের পেইজ কিংবা গ্রুপ বিষয়ে কোনো ধারণা না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েন। পড়ে পরিবার আর কিছু বড়ভাইয়ের সহযোগিতায় গেলো বছরের জুলাই মাসে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে খুলেন পেইজ। প্রথমে কাজ শুরু করেন বেবি অয়ার নিয়ে। পরে এতে যুক্ত করেন মনিপুরী পণ্য ও জামদানি শাড়ি।

এ বিষয়ে নিসফাহান আক্তার সূচী বলেন, বিজনেসের পাশাপাশি বিজনেস রিলেটেট পড়াশোনা করা খুব জরুরি। কারণ, ছোট একটা ভুলের কারণে হারিয়ে যেতে আপনার পেইজ বা ফেইসবুক আইডি। আর খুব ভাল নজরদারি না রাখলে ফেইক আইডির দরুন আপনার ব্যবসায় প্রভাব পড়তে পারে। আমার বাবার অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় এতো দূর আসা। আমি অনলাইন বিজনেস নিয়ে অনেক দূরে এগিয়ে যেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের স্বপ্নপূরণের প্ল্যাটফর্ম উই-এ জয়েন করেই আমি আমার উদ্যোগ শুরু করি। ভাবছিলাম একটা কিছু করব অনলাইনকে কাজে লাগিয়ে। কিন্তু কীভাবে কী করব, বুঝে উঠতে পারছিলাম না। উই থেকেই শিখেছি কীভাবে নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটতে হয়। আমার মতো হাজারও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি করেছে উই। উই প্রতিনিয়ত কাজ করছে উদ্যোক্তাদের স্কিল ডেভেলপ করার জন্য। উই-এ এসেই শিখেছি একটা উদ্যোগ কীভাবে শুরু করতে হয়, কীভাবে একে পরিচালনা করতে হয়, ছোট থেকে বড় করতে হয়।

গণমাধ্যম