সিলেট প্রতিক্ষণ



নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন / ১৩ / ২০২৫


কিয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও আবাসিকে গ্যাস সংযোগের সম্ভাবনা নেই : জ্বালানি উপদেষ্টা


280

Shares


বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগকে অপচয় উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘আবাসিকের ক্ষেত্রে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও গ্যাস সংযোগের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তবে গ্যাস উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে কম টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার সুবিধা চালু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো যেখানে সাড়ে চৌদ্দশ সেখানে আমরা ৮০০ টাকায় গ্যাস সিলিন্ডার দেবো। এটি খুব শিগগির চালু হবে।’

শুক্রবার (১৩ জুন) সকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় কৈলাসটিলা গ্যাসফিল্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এসব কথা বলেন। 

তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার পৌর এলাকাস্থ কৈলাশটিলা গ্যাস ফিল্ডের ৭ নম্বর কূপ এলাকা, বাপেক্সের রিগ বিজয়-১২ ও কৈলাশটিলা ১ নম্বর কূপে ওয়ার্কওভারের নিমিত্ত প্রস্তুতকৃত রিগপ্যাড পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি একই উপজেলার কৈলাশটিলা এমএসটি প্লান্ট পরিদর্শন করেন।

এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের (অপারেশন বিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মো. খালিদ আহমেদ, বাপেক্স/এসজিএফএল’র প্রকৌশলী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সোহেব আহমদ, পেট্রো বাংলার চেয়ারম্যান রেহসানুল ইসলাম, সেক্রেটারি ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনির হোসেন।

পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তাকে প্রশ্ন করা হয়-সিলেটের যেসব এলাকা থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয় সেসব এলাকায় বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ আছে কিনা। এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আবাসিকের ক্ষেত্রে কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও গ্যাস সংযোগের কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার পক্ষে যদি সম্ভব হতো তাহলে আমি ঢাকাতেও আবাসিক গ্যাস বন্ধ করে দিতাম। কারণ শিল্পকারখানা যেখানে গ্যাস পাচ্ছে না, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেখানে গ্যাসের ঘাটতি সেখানে বাসাবাড়িতে তো এটা (গ্যাস) একটা অপচয়।’ 

বাসাবাড়িতে গ্যাস দেওয়া সরবরাহ লোকসান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহের যে ব্যয় হয় তার বিপরীতে গ্যাস থেকে যে টাকা পাওয়া যায়-এটার মধ্যে বিস্তর ফারাক।’ তবে সরকার গ্যাস উত্তোলনকারী এলাকায় স্বল্প মূল্যে সিলিন্ডার গ্যাস দেবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একটা ব্যবস্থা করেছি, যেসব এলাকায় গ্যাস উৎপাদন হয় সেসব এলাকায় আমরা স্বল্প মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার দিচ্ছি। বেসরকারি গ্যাস সিলিন্ডার যেগুলো ১ হাজার ৪৫০ টাকা প্রতি সিলিন্ডার সেগুলো আমরা দেবো ৮০০ টাকায়। এটি খুব দ্রুতই চালু করা হবে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, ‘আপনারা সবাইকে জানাবেন, বাসাবাড়িতে আর গ্যাস সংযোগ সম্ভব নয়। একসময় গ্যাসের এত ব্যবহার ছিল না তখন বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন এলপিজি এসে গেছে। এলপিজির দামও কমানোর চেষ্টা করছি। সামনের সময়গুলোতে বাসাবাড়িতে এলপিজি গ্যাসই ব্যবহার করতে হবে আর শিল্পকারখানায় আমরা গ্যাস ব্যবহার করব।’

আরো গ্যাস পাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে এসময় তিনি বলেন, ‘এখানে প্রধানত গ্যাসের কার্যক্রম দেখতে এসেছি। এখানে আমাদের কিছু ওয়ার্কওভার হচ্ছে, মানে গ্যাস কূপের আশপাশ থেকে নতুন গ্যাস পাওয়া যায় কিনা সেই কাজ চলছে। অনেকক্ষেত্রে সফলতা এসেছে। ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মিলেছে। আরেকটি আমরা অনুসন্ধান করছি। সেখানেও আশা করছি ৬ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাবো।’



ওয়াইএফ/০১

সিলেট প্রতিক্ষণ