সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

এপ্রিল / ৩০ / ২০২১


সিলেটে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ অক্সিজেন ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার


79

Shares

সিলেটের করোনা হাসপাতালে অক্সিজেন ব্যবহারে ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। অক্সিজেন সংকটের আশঙ্কা থেকে যতটুকু সম্ভব ‘মিতব্যয়ী’ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত  হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলেন- করোনা হাসপাতালে যাতে অক্সিজেনের কোনো ঘাটতি না হয় সেদিকে সবার নজর রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ ব্যাপারে আগে থেকেই সতর্ক। করোনা চিকিৎসার অন্যতম উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট কমাতে অক্সিজেনই হচ্ছে একমাত্র ভরসা। পাশের দেশ ভারতে চলছে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার।

এই অবস্থায় বাংলাদেশে লিনডা ও স্প্রেক্টা নামের দুটি কোম্পানি চাহিদার উদ্বৃত্ত অংশের অক্সিজেন এতদিন ভারত থেকে আমদানি করেছেন। এতে করে করোনা চিকিৎসার জন্য রোগীদের নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন সরবরাহ সম্ভব হয়েছে। এখন ভারতেই চলছে অক্সিজেন সংকট। ফলে ওখান থেকে অক্সিজেন আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অক্সিজেন ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ব্যবহার করা হয়। সিলেটের করোনা হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় আইসিইউতে। এরপর ন্যাজল ক্যানোলা ও ওয়ার্ডে রোগীদের অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া হয়। করোনা সংক্রমণের শুরুতে সিলেটে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ছিল না সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা। সিলিন্ডার দিয়ে রোগীদের দেয়া হতো অক্সিজেন সেবা। পরবর্তীতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নির্ভরতা কমাতে হাসপাতালে প্রবাসী অর্থায়নে ১০ হাজার লিটারের প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। স্পেক্ট্রা অক্সিজেন লিমিটেড এরপর থেকে ওই হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। এ হাসপাতালে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার লিটার তরল অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। এতদিন অক্সিজেন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না। কিন্তু এখন সরবরাহকারী কোম্পানি স্পেক্ট্রার সতর্কতার কারণে মিতব্যয়ী হতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত মহাপাত্র জানিয়েছেন, সিলেট বিভাগের একমাত্র করোনা হাসপাতাল হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের নিয়ে প্রতিনিয়ত লড়াই হচ্ছে। এখনো তাদের হাসপাতালে অক্সিজেন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে- সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রার পক্ষ থেকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সিলিন্ডার অক্সিজেন ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব বিষয় তিনি তার ঊর্ধ্বতনদের জানিয়েছেন।

এদিকে সিলেটে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়লে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও চিকিৎসার দুয়ার খুলে দেয়া হবে। তবে এখন যারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত ও চিহ্নিত হচ্ছেন তাদের চিকিৎসা হাসপাতালে রেখেই দেয়া হচ্ছে। ১০টি বেড সংবলিত একটি আইসিইউ বেড চালু রাখা হয়েছে। এর বাইরে আরো ২০০ শয্যার একটি আইসোলেশন সেন্টারের প্রস্তুতি চলছে। নতুন বিল্ডিংয়ে নতুন করে এই আইসোলেশন সেন্টার খুলার প্রস্তুতি চলছে। সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে অত্যাধুনিক আইসিইউ ব্যবস্থা। এই আইসিইউ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিক প্রয়োজন পড়ে অক্সিজেনের। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানিয়েছেন, ‘ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকলেও আমাদের হাসপাতালগুলোতে সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। যেসব কোম্পানি সরবরাহ করছে তারা এখনো স্বাভাবিক ভাবে দিচ্ছেন। আর আমাদের রোগীর সংখ্যাও এখন কম। ফলে আমাদের দুশ্চিন্তা হওয়ার কারণ নেই।’ তবে তিনি জানান, ‘আমাদের দেশে সরকারি বড় হাসপাতালগুলোতে নিজস্ব অক্সিজেন প্ল্যান্ট করা জরুরি। আর এটি সম্ভব হলে দুর্যোগ মুহূর্তে আর অক্সিজেন নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে সম্ভব হবো।’

সিলেট প্রতিক্ষণ