দর্পণ ৩৬০ ডিগ্রি



নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল / ২১ / ২০২১


সিলেটে লকডাউনে মাদক সেবনে ‘হোম সার্ভিস’


36

Shares

লকডাউনে রাস্তায় কঠোর পুলিশ। প্রয়োজন ছাড়া বের হলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশী জেরার মুখে। এই অবস্থায় ‘বিপাকে’ পড়েছেন মাদকসেবীরা। আগের নির্ধারিত আসরে গিয়ে সেবন করতে পারছেন না মাদক। কিন্তু লকডাউন আর পুলিশের কঠোরতাও দমাতে পারছে না মাদকসেবীদের আসক্তি। ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ হিসেবে মাদক বিক্রেতারা নিয়ে এসেছে ‘হোম সার্ভিস’। কয়েকজন মাদকসেবী এক জায়গায় জড়ো হয়ে ফোনে অর্ডার দিলেই পৌঁছে দেয়া হচ্ছে মাদক। অনেক কারবারি আবার নিজের বাসা-বাড়িতে মাদক সেবনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন ক্রেতাদের। গত দু’দিনে পুলিশের অভিযানে সন্ধান মিলেছে এরকম ‘হোম সার্ভিসে’র। পুলিশ বলছে, মাদক বিক্রয় ও সেবনের যতোই কৌশল পাল্টানো হোক না কেন, এর সাথে জড়িতরা কোনভাবেই পার পাবে না।

গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা বড় বাজার এলাকার ৯৪ নম্বর বাসায় অভিযান চালায় বিমানবন্দর থানা পুলিশ। এসময় ২১ পিস ইয়াবাসহ ওই বাসার বাসিন্দা শেখ মোনায়েম আহমেদ মুনেমকে আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। লকডাউন শুরুর পর থেকে মোনায়েমের বাসায় মাদকসেবীরা আসর বসাতো বলে সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মোনায়েম মাদকের দামের সাথে বাসায় বসে সেবনের জন্য আলাদা ‘সার্ভিস চার্জ’ও নিতেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এর আগের দিন গত রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সুবিদবাজার বনকলাপাড়া এলাকা থেকে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাবিল রাজাসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের কাছে থেকে ১৯ পিস ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। নাবিল রাজার বিরুদ্ধে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন থানায় মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই, খুন ও চাঁদাবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। লকডাউনের সময় নাবিল রাজা তার নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন বাসায় মাদক ব্যবসা ও সেবনের আসর বসাতো বলে জানা গেছে। তার সাথে আটক হওয়া অন্য দুই সহযোগী হলেন- আখালিয়া পূর্বাশা আবাসিক এলাকার আক্তার বক্সের ছেলে জামিল বক্স ও সুবিদবাজার বনকলাপাড়ার রকিব উদ্দিন খানের ছেলে তানজিন খান।

সূত্র জানায়, লকডাউনের কারণে রাস্তায় পুলিশী তৎপরতা থাকায় মাদক কারবারিরা মাদকের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাড়তি দামে তারা সেবনকারীদের বাসায় পৌঁছে দিচ্ছেন মাদক। তবে যারা এই ‘হোম সার্ভিস’র সাথে জড়িত তাদের বেশিরভাগই খুচরা ব্যবসায়ী ও মধ্যস্বত্তভোগী। মূল কারবারির কাছে থেকে ইয়াবা ও ফেনসিডিল কিনে তারা মাদকাসক্তদের বাসায় সরবরাহ করে থাকে। অনেকে আবার মাদক সেবনের জায়গারও ব্যবস্থা করে দেয়। এতে তারা ‘সার্ভিস চার্জ’ হিসেবে বাড়তি টাকাও নিয়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, মাদক কারবারি ও সেবীরা অনেক সময় কৌশল পরিবর্তন করে। কিন্তু পুলিশ তাদের গোপন সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে অভিযান চালায়। সিলেট মহানগরীর ভেতরে মাদকের ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্সে আছে।

দর্পণ ৩৬০ ডিগ্রি