প্রবাস দর্পণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

এপ্রিল / ০৫ / ২০২১


পর্যটনে সম্ভাবনাময় ব্রিটিশ আয়রন ব্রিজ


184

Shares

ব্রিজটির এপারে বাংলাদেশ, ওপার ভারত। নিচ দিয়ে বহমান কাটা নালা নামের ছোট্ট একটি নদী। এই নদীতে বিভক্ত ভারত আর বাংলাদেশ। লতাপাতায় ঘেরা লোহার তৈরি এই ব্রিজটি ব্রিটিশ আমলের। সেজন্য স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ব্রিটিশ আয়রন ব্রিজ।

আকর্ষণীয় এই ব্রিজটি অবস্থিত মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাঠিটিলা এলাকায়। ব্রিটিশ আয়রন ব্রিজটি দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী ছুটে আসেন এখানে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষেরা দুই দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন প্রাণভরে। সেখানে গিয়ে অনেকে স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখতে নিজেকে ক্যামেরাবন্দি করে রাখেন। 

জানা যায়, একসময় এই ব্রিজটি দিয়ে অবাধে যাতায়াত ছিল দুই দেশের মানুষের। কিন্তু এখন সে অবস্থা আর নেই। কাঁটাতারের বেড়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবাধ যাতায়াতে।

লোকমুখে প্রচলিত, তৎকালীন ভারতের আদালত ছিল মৌলভীবাজার জেলায়। আর এই আয়রন ব্রিজটিই ছিল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। এই ব্রিজটি অবস্থিত ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা ও বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলার ডুমাবাড়ি এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়, তখনকার ইংরেজ শাসনামলে এই ব্রিজটি তৈরি করা হয়। দেশ স্বাধীনের সময় এই ব্রিজটি ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ছিল। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে ভারতের সেনাবাহিনী ব্রিজটি ধ্বংস করার চেষ্টা করলেও পাকবাহিনীর দৃঢ়তায় তা ব্যর্থ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক না থাকার ফলে ব্রিজটি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং একসময় এটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। তবে আশ্চর্যজনক সত্য হলো, ব্রিজটি দীর্ঘ অবহেলা আর অযত্নে থাকার পরেও তার পুরোনো সেই জৌলুস নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে নদীর তীব্র স্রোতে ব্রিজটির একপাশ সম্পূর্ণ কাত হয়ে ভেঙে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা শফিক উদ্দিন বলেন, 'গত কয়েকবছর ধরে প্রতিদিন এখানে অনেক দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন। বেশিরভাগই দেখা যায় মোটরসাইকেল নিয়ে দলে দলে ঘুরতে আসছেন। এছাড়াও দূর-দূরান্ত থেক গাড়িবহর নিয়ে পরিবারসহ আসেন অনেকে।'

জুড়ীর স্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল 'জুড়ীর সময়' এর সম্পাদক আশরাফ আলী বলেন, 'এখানে এলে দুই দেশের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সীমান্তকেন্দ্রিক এই স্থানটিকে যদি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে জেলার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান হবে এই জায়গাটি।'

তিনি বলেন, 'কমলার জন্য সুপরিচিত লাঠিটিলা। পাশাপাশি যদি এই স্থানটিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরে আনেন, তাহলে কমলার পাশাপাশি আয়রন ব্রিজটির সুনাম ছড়িয়ে পড়বে দেশজুড়ে।' 

স্থানীয় গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'আমরা ছোটবেলায় শুনেছি আমাদের দাদারা এই ব্রিজটি দিয়ে করিমগঞ্জে গিয়ে পড়ালেখা করেছেন। এই এলাকাটির সৌন্দর্য দিন দিন বাড়ছে। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে এই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে।'

প্রবাস দর্পণ