মতামত



দেশদর্পণ ডেস্ক

মার্চ / ৩০ / ২০২১


কার গেম কে খেলে!


185

Shares

তরঞ্জি খেলার দর্শক হিসেবে খেলা উপভোগ করার মজা কিন্তু আলাদা। কখনো আক্রমণাত্মক, কখনো ধীরেসুস্থে খেলা এগুতে থাকে… দুই পক্ষ চাল দিলে, কে কোন চালে ভুল করলো বা কোন চালে কি কৌশল করলো তা দর্শক হিসেবে যেভাবে আপনি বুঝতে পারবেন… একজন খেলোয়াড় হিসেবে ততটা বুঝতে পারবেন না।

হেফাজত আর সরকারের আন্দোলন-প্রতিরোধ-আন্দোলন-দমন খেলায় কে জিতলো আর কে হারলো সে হিসেবে আমি যেতে চাই না। আমি পুরো গেমটাকে বার্ডস আই ভিউ থেকে দেখতে চাই।
হেফাজত চেয়েছে মোদি বিরোধী প্রটেস্ট করতে, তারা তা করেছে।
আওয়ামী লীগ চেয়েছে স্বাধীনতার ৫০বছর পূর্তি উৎসবে ভারতের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রিত করতে, তারা তাও করেছে।


(একটা ব্যাপার লক্ষ করুন, আওয়ামী লীগ ভারতের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রিত করেছে, আর হেফাজত নরেন্দ্র মোদির বিরোধিতা করেছে। আওয়ামী মতে এখানে ভারতের সরকার প্রধান, এক্স ওয়াই জেড সমস্যা না।)

আর এই আন্দোলনে আপাতদৃষ্টিতে আমার মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগই লাভবান হয়েছে। বহির্বিশ্বে হর্তাকর্তা দেশের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ভারত ভালোভাবে টের পেয়েছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া তাদের গতি নেই। অপরদিকে নরেন্দ্র মোদি হিন্দুত্ববাদের গান গেয়ে বাংলাদেশ সফরে প্রমাণ করে গেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হিন্দু বিদ্বেষীতে ছেয়ে গেছে… সনাতন ধর্মের বাঁচার একমাত্র পথ বিজেপি। যারা হেফাজতের কট্টর সমর্থক, তারা ভাবছেন, সরকারকে ভালই একটা ধাক্কা দেয়া গেল! সবদিকে উইন উইন সিচ্যুয়েশন।

এই তিনদিনের বিক্ষোভ, আন্দোলন, মিছিল সবকিছুর পর আজকের হরতাল শেষে হেফাজত আন্দোলনে একটু স্থিতি এনে ভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে। দেখুন, শুরুতেই আমি বলেছি, যেকোন আন্দোলনকে বার্ডস আই ভিউতে দেখার জন্য। আর এই আন্দোলনে আপাতদৃষ্টিতে আমার মনে হয়েছে, আওয়ামী লীগই লাভবান হয়েছে। বহির্বিশ্বে হর্তাকর্তা দেশের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। ভারত ভালোভাবে টের পেয়েছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া তাদের গতি নেই। অপরদিকে নরেন্দ্র মোদি হিন্দুত্ববাদের গান গেয়ে বাংলাদেশ সফরে প্রমাণ করে গেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে হিন্দু বিদ্বেষীতে ছেয়ে গেছে… সনাতন ধর্মের বাঁচার একমাত্র পথ বিজেপি। যারা হেফাজতের কট্টর সমর্থক, তারা ভাবছেন, সরকারকে ভালই একটা ধাক্কা দেয়া গেল! সবদিকে উইন উইন সিচ্যুয়েশন।

বিজেপির উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিলে এ মুহূর্তে হেফাজত নিজেদের অরাজনৈতিক ট্যাগ ঝেড়ে ফেলে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। স্মরণ করিয়ে দেই, ১৯৮২ সালের অষ্টম লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ২ (দুই)। ২০১৯ সালের নির্বাচনে তা থ্রি নট থ্রি রাইফেল (৩০৩)। সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে প্রকাশ করে সরাসরি নির্বাচনে হেফাজতে ইসলাম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আমি তাদের ভবিষ্যৎ অতি উজ্জ্বল দেখছি। রাজনীতির মাঠে সবাই খেলোয়াড়, খেলেন।

এক্ষণে আমার একজন ফুটবল খেলোয়াড়ের কথা খুব মনে পড়ছে, তার নাম এসকোভার। কলম্বিয়ার এনড্রেউ এসকোভার। ১৯৯৪ সালের ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপে তিনি কলম্বিয়ার রক্ষণভাগের দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। এলিমেশন রাউণ্ডে আমেরিকার বিপক্ষে গোল বাঁচাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন। যার ফলে কলম্বিয়ার পরবর্তী রাউন্ডের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। কলম্বিয়ায় ফেরার পর মাফিয়ারা তাকে গুলি করে হত্যা করে। কথিত আছে গুলি করার সময় তারা বলেছিল, গোলের জন্য ধন্যবাদ। অথচ, এসকোভার প্রাণান্ত চেষ্টা করেছিলেন গোল প্রতিরোধ করার!

কে কার পক্ষে খেলে, কার পক্ষে গোল হয় আর কে জয়লাভ করে… বিষয়গুলো নজরে আনছি আবারও।

এ তো গেল দল, গোত্র, মত বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার হিসেব নিকেশ… এখন বলি ১০টি লাশের কথা। যাদের আপনারা শহীদ বলছেন, সম্মানিত আন্দোলনকারী এবং সরকার প্রধান… আপনাদের কারও কিছুই যায়নি, যার বা যাদের গিয়েছে তাদের ঘরের মাতম দেখেন যেয়ে… কোন মায়ের কোল খালি হল, যার যায় সেই তো বুঝে।

আমরা তো ক্ষমতার হিসেব নিকেশ করি! শতরঞ্জি খেলা দেখি…!

  • এনামুল হক। কলামিস্ট ও প্রভাষক, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ।


মতামত