দেশদর্পণ ডেস্ক

২৯ মার্চ ২০১৮, ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ




১৫ বছর পর ফেঞ্চুগঞ্জের ৫ ইউপিতে নির্বাচন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মামলার বেড়াজালে ১৫ বছর আটকা ছিল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের নির্বাচন। আজ যেন সেই কাঙ্খিত দিন ভোটারদের জন্য। রাত পোহালেই আজ (২৯ মার্চ) ১৫ বছর নির্বাচন বঞ্চিত পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর তাই দারুন উজ্জীবিত ভোটাররা।

প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয় করতে ছুটে চলেছেন গ্রামের পর গ্রাম, এ বাড়ি-ওবাড়ি। পাড়া-মহল্লায় ভোটের উৎসবে একটাই বিতর্ক কে হচ্ছেন-মেম্বার, কে হচ্ছেন চেয়ারম্যান? এমন বিতর্ক ও হিসাব-নিকাশের অবসানও হবে আজ। নির্বাচনকে অবাদ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (২৮ মার্চ) ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা বিমল কান্তি সরকার বলেন, এরই মধ্যে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৪৫টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে পৌঁছেছেন প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

এদিকে নির্বাচনকে অবাদ সুষ্ঠু নিরাপেক্ষ করতে সর্বোচ্চ সতর্কবস্থায় থাকবে পুলিশ। নির্বাচনকে ঘিরে ৫টি ইউনিয়নে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি ও ৬ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দুইজন জুডিশিয়াল ও ৫জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত ৭টি টিম চষে বেড়াবে বিভিন্ন কেন্দ্রে।

সিলেট জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৬০৯ জন পুলিশ, আর্মড পুলিশ সমান সংখ্যকভাবে ৫টি ইউনিয়নে মোতায়েন থাকবে। কেন্দ্র প্রতি ১৭ জন করে আনসার ও ভিপিডি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনী এলাকায় একজন করে পরিদর্শকের নেতৃত্বে ১০ জন পুলিশের সমন্বয়ে ৬টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ছয় সদস্যের ২০টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়াও প্রতি ইউনিয়নে দু’টি করে র‌্যাবের টিম নিরাপত্তায় কাজ করবে।

৫টি ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলায় নেতৃত্ব দেবেন তিনজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ২ জন সহকারী পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান নিজে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করবেন বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ফেঞ্চুগঞ্জে ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ৫০ এবং সাধারণ সদস্য পদে ২২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এরমধ্যে ১ নং ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন। তারা হলেন মো. বদরুদ্দোজা (আনারস), মাশার আহমদ (নৌকা), জাহিরুল ইসলাম মুরাদ (ধানের শীষ)।

এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১২ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।

২ নং মাইজগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন। এরমধ্যে ইমরান আহমদ চৌধুরী (আনারস), শিপু চৌধুরী (নৌকা) ও সুফিয়ানুল করিম চৌধুরী (ধানের শীষ)।

এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৪ জন প্রার্থী রয়েছেন।

৩নং ঘিলাছড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৩জন বর্তমান চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফ চৌধুরী বাবুল (আনারস), আলহাজ আবুল লেইছ চৌধুরী (নৌকা), সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব আলী (ধানের শীষ) । এই ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

৪ নং উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬জন প্রার্থী রয়েছেন। তারা হলেন সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান (আনারস), মনির আলী (মোটরসাইকেল), বসারত আলী (অটোরিকশা), মো. আক্তার আলী (ঘোড়া), আহমেদ জিলু (ধানের শীষ) ও মো. লুদু মিয়া (নৌকা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১০ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪৬ জন প্রার্থী।

৫ নং উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বি রয়েছেন। তারা হলেন মো. আব্দুল ওয়াদুদ (আনারস), আতিকুর রহমান মিটু (ঘোড়া) ও সত্য কুমার বিশ্বাস (মোটরসাইকেল), এমরান উদ্দিন (ধানের ধানের শীষ) ও জসিম উদ্দিন (নৌকা)। এ ইউনিয়নে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ৯ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর