জাতীয়, বাংলাদেশ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২২ অক্টোবর ২০১৭, ২:৫৫ অপরাহ্ণ




সড়ক নিরাপত্তায় ভিআইপিদেরও ছাড় না দেওয়ার হুঁশিয়ারি

দেশদর্পণ ডেস্ক :: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক নিরাপদ রাখার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও (ভিআইপি) ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি জনপ্রতিনিধিদের সমালোচনা করে বলেন, ‘দলীয় কর্মীরা হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেলে তিনজন বসে আলেক্সান্ডারের মতো রাস্তায় চলেন। জনপ্রতিনিধিরা এলাকায় গেলে তাদের সংবর্ধনার জন্য মাইলের পর মাইল রাস্তা বন্ধ করে রাখেন। সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেন।’

রোববার রাজধানীর ওসামনী মিলনায়তনে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এবারই প্রথমবারের মতো দেশে পালিত হয়েছে দিবসটি। ‘দায়সারা গোছের’ পালনে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওবাদুল কাদের বলেন, ‘দিবস পালনে অর্থ মন্ত্রণালয় ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ রকম দায়সারা দিবস পালন করে লাভ নেই। নামকাওয়াস্তে একটা দিবস সরকার ঘোষণা করল, কোনো রকমে এটা পালন করলাম। এটা অর্থহীন, মূল্যহীন। মানুষকে সচেতন করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে দিবস পালন করতে হবে।’

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনিরুল ইসলাম এমপি, সড়ক পরিবহন সচিব নজরুল ইসলাম, সাবেক সচিব এমএএন ছিদ্দিক।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, হাইওয়ে পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক আতিকুর রহমান প্রমুখ।

পরিসংখ্যান দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, ‘দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমছে।’

ট্রাফিক আইন অমান্য ও উল্টোপথে গাড়ি চলাচল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, ‘অসাধারণ’ কিছু মানুষ, ‘অসাধারণ’ আইনজীবী, ‘অসাধারণ সাংবাদিক’ কেউ রাস্তায় আইন মানতে চায় না। সাংবাদিক নয়, তবুও গাড়িতে সাংবাদিক স্টিকার। জনপ্রতিনিধি না, এমপি না, কিন্তু গাড়িতে ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে আইন কানুন তোয়াক্কা না করে চলেন। লজ্জার বিষয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়েও উল্টোপথে যাওয়া বন্ধ করতে পারিনি।’

হতাশকণ্ঠে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার কথা কেউ শোনেনি। এখন দুদক ধরেছে। ধরা হবে, তবে ছাড়া হবে না।’

ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধের দায়িত্বে থাকা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েও রাস্তায় এসব যান চলাচলের ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘কী করে এত আনফিট গাড়ি, লক্কড়ঝক্কড় মার্কা গাড়ি রাাস্তায় আসে! শুধু জলাবদ্ধতায় নয়, লজ্জাতেও ডুবছি। বাঁচতে হলে ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতেই হবে। সমন্বিতভাবে, পরিকল্পতভাবে যানজটের বিরুদ্ধে, দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে, পরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’

সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০২০ সালের মধ্যে সড়কের হতাহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্য মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। নিময় মেনে পথে চলতে হবে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘পথচারী ও মোটরসাইকেলে দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশ ঠিকভাবে কাজ করছে না। জনপ্রতিনিধিরাও তাদের কাজ করছেন না। তাদের পরিবর্তন ছাড়া সড়ক নিরাপদ হবে না।’

ইবনে আলম হাসান বলেন, ‘মহাসড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। ভাঙাচোরা কমছে। এখন দরকার মহাসড়কের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা। সড়ক মরণফাঁদ-এ রকম শিরোনাম মানুষ আর দেখতে চায় না।’

প্র.প/আ-প্র.প

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর