আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ




সু চির সম্মাননা কেড়ে নিলো অক্সফোর্ড

দেশদর্পন ডেস্ক :: রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি’র বিতর্কিত ভূমিকার জন্য এবার তাকে দেওয়া যুক্তরাজ্যের ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি অব অক্সফোর্ড’ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সিএনএন ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়েছে।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এই সম্মাননা প্রত্যাহার করা হয়।

অক্সফোর্ড নগর কাউন্সিল টুইটবার্তায় জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে, তাতে সু চি আর ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি’ নামের ওই পুরস্কারের যোগ্য নন। সু চির সম্মাননা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের পক্ষে সর্বসম্মত রায় পড়েছে। গত অক্টোবরে কর্তৃপক্ষ সু চির খেতাব প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় অক্সফোর্ড নগর কাউন্সিল। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

কাউন্সিলর ম্যারি ক্লার্কসন এই খেতাব প্রত্যাহারে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং মানবিক শহর হিসেবে অক্সফোর্ডের খ্যাতি রয়েছে। কিন্তু এমন এক ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল, যিনি সহিংসতা থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি নীরব রয়েছেন, নিষ্ক্রিয় থাকছেন। তাঁকে সম্মাননা দেওয়ার ফলে নগর কর্তৃপক্ষের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই এই খেতাব প্রত্যাহারের উদ্যোগ।

অং সান সু চিকে ১৯৯৭ সালে ‘ফ্রিডম অব দ্য সিটি’ খেতাবে ভূষিত করে নগর কর্তৃপক্ষ। ওই শহরটির সঙ্গে অং সান সু চির নাম জড়িয়ে আছে। কারণ, তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি স্নাতক শেষ করেন। গৃহবন্দী থাকায় ২০১২ সালে সু চি এ সম্মাননা গ্রহণ করেন। বিবিসি জানিয়েছে, সেন্ট হাগস কলেজ, যেখানে সু চি পড়াশোনা করেছিলেন, সেখান থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সরকারি বাহিনীর নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ থেকে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা মুসলিমরা। জাতিগত এই দমন নিপিড়ন বন্ধে কোন ধরণের উদ্যোগ না নিয়ে নীরব থাকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর