রাজনীতি, লিড নিউজ, সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ৮:০২ অপরাহ্ণ




সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। তিন আউলিয়ার মাজার জিয়ারত এবং জনসভায় ভাষণের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সিলেট থেকে এই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

সিলেটের চৌহাট্টাস্থ আলিয়া মাদরাসা মাঠে বিকালের জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রচার চালানো এখান থেকেই শুরু।’ নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে যে নির্বাচন হবে, সে নির্বাচনে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

এসময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে জনসভায় আগত সবাইকে হাত তুলে ওয়াদা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’ তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাদরাসা মাঠভর্তি মানুষ হাত তুলে সায় দেন।

সিলেট জেলা ও মহানগর আয়োজিত এই জনসভায় সরকারি ২০টি প্রকল্প উদ্বোধন এবং ১৮টির ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন বলেই আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ পুরস্কৃত হয় আর তারা (বিএনপি) এলে হয় তিরস্কৃত।’

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর সিলেটে শেখ হাসিনার এটি তৃতীয় সফর এটি। গতকাল বক্তৃতার প্রারম্ভে তিনি স্মরণ করেন সিলেটের প্রয়াত রাজনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদুস সামাদ আজাদ, সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া, দেওয়ান ফরিদ গাজী ও সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে।

তিনি ২০০৫ সালের শুরুতে হবিগঞ্জে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া এবং সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গ্রেনেড হামলায় নিশংসভাবে হত্যা করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন রাষ্টদূত আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা এবং বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের উপর গ্রেনেড হামলার কথাও উল্লেখ করে এজন্য বিএনপির নিন্দা জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না।’

দশম জাতীয় সংসদ বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোটের ভোট কেন্দ্রে আগুন দেওয়াসহ নাশকতামূলক কর্মকা-ে কথাও উল্লেখ বলেন। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছরে বিএনপি হাজার হাজার গাড়ি পুড়িয়েছে। ৩ হাজার ৩৬ জন মানুষ তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। পোড়া মানুষের লাশ দেখে খালেদা জিয়া উৎফুল্ল হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এ ধরণের আন্দোলন আমরা দেখিনি। আন্দোলন করা হয় মানুষের জন্য অথচ তারা আন্দোলন করে মানুষ মেরে।’

সেনানিবাস প্রতিষ্ঠাসহ সিলেটের উন্নয়নে নেওয়া নানা পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে দেশের এত উন্নয়ন হত না। লুটেরা আসলে লুটেপুটে খেত।’

সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলে উপস্থিতির খন্ড চিত্র।

এর আগে সকালে সিলেটে পৌঁছে প্রথমেই নগরের দরগাহ মহল্লায় যান শেখ হাসিনা। সেখানে তিনি হজরত শাহজালালের মাজার জিয়ারত ও মোনাজাত করেন। শাহজালালের মাজার থেকে শেখ হাসিনা যান শহরতলীর খাদিম নগরে হজরত শাহপরাণের মাজারে। এরপর সুরমা পারের কুশিঘাট এলাকায় হজরত গাজী বুরহান উদ্দীনের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। তিন মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট সার্কিট হাউজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নামাজ ও মধ্যাহ্ন বিরতির পর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভাস্থলে পৌছান।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ প্রমুখ। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব-উল আলম হানিফ, দীপু মনি, শেখ হেলাল, দেলোয়ার হোসেন, নওফেল চৌধুরী, বিপ্লব বড়ুয়া, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর