সংগঠন সংবাদ, সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ




সিলেটে রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপনের সমাপনী অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের বছরব্যাপি উদযাপনের আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে বছরব্যাপি উদযাপন সমাপ্ত হয়। সমাজতান্ত্রিক রুশ বিপ্লবের শতবর্ষ উদযাপন কমিটি সিলেট এর আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘পুজিবাদের বিকল্প সমাজতন্ত্র। কিন্তু সমাজতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই।’ তারা বলেন, আজ হয়তো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে পড়েছে। কিন্তু সমাজতন্ত্র ভেঙ্গে পড়েনি, পতনও হয়নি।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্য। কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. আবুল কাসেমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় সভাপতি ব্যারিস্টার মো. আরশ আলী, জাসদ কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট জেলা সভাপতি লোকমান আহমদ, সাম্যবাদী দলের নেতা আফরোজ আলী, ওয়ার্কাস পার্টি সিলেট জেলা সাধারণ সম্পাদক সিকান্দর আলী, বাসদ সিলেট জেলার সমন্বয়ক কমরেড আবু জাফর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা রুশ বিপ্লবকে মানব মুক্তির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘রুশ বিপ্লব মানুষের মুক্তির দিশা নির্দেশ করেছে।’ তারা বলেন, ‘রুশ বিপ্লব পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে একটি সামজিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল। তাই রুশ বিপ্লব আজও পৃথিবীর সকল শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।’ ঔপনিবেশিক শোষণে নিপীড়িত জাতিসমূহকে শোষণের নিগঢ় ভাঙতে রুশ বিপ্লব অনুপ্রাণিত ও সমর্থন যুগিয়েছে মন্তব্য করে তারা বলেন, ‘সোভিয়েতের পতনের ফলে সারা পৃথিবীর মানুষকে আজ চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। মানুষের ক্ষোভ ও দুর্দশা জানিয়ে দিচ্ছে সভ্যতা কোন বর্বরতায় গিয়ে পৌছেছে। এ ব্যবস্থা চললে পৃথিবীর ধবংস ঠেকিয়ে রাখা অসম্ভব হবে।’

এর আগে বিকেল চারটার দিকে উদযাপন কমিটি সিলেটের সংস্কৃতিক উপ-কমিটির তত্ত্বাবধানে কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনাল ‘জাগো জাগো সর্বহারা’ পরিবেশনের মধ্যদিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জাসদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক কে এ কিবরিয়া।

সমাপনী সমাবেশ শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একুশে পদকপ্রাপ্ত গণসংগীত শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদ সেলিমের পরিবেশনা মুগ্ধ করে উপস্থিতদের। এছাড়া অনুষ্ঠানে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠি, গীতবিতান বাংলাদেশ, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, নৃত্যশৈলী সিলেটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় শেষ হয় বছরব্যাপি অনুষ্ঠানের।

 

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর