সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০১৭, ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ




সিলেটে টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপের প্রভাবে সিলেটে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত দুইদিনের টানা বর্ষণে সিলেটে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এই ধারা আরও একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

শনিবার সকাল ৬ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া, দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে দেশদর্পনকে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মনন্ত বিশ্বাস।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে সিলেটে নগর জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না অনেকে। রাস্তায় গণ পরিবহণের সংখ্যাও স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কম। তবে যারা প্রয়োজনে বেরুচ্ছেন তাদের পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগে। বিশেষ করে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় অনেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হেঁটেই গন্তব্যে রওয়ানা হন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের পড়তে হয় বেশি বিপাকে। বৃষ্টির মাঝেই তারা ঘর ছেড়ে বেরুলেও কাজের সন্ধান পাননি অনেকে।

রিকশা চালক আবদুল গফ্ফার দেশদর্পনকে বলেন, ’দু’দিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। পেটের তাগিদে রিকশা নিয়ে বের হলেও যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে কম। সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাত্র ১৫০ টাকা রুজি করছি। এই টাকা দিয়ে কী হবে?’

চাকুরীজীবী আয়ূবুর রহমান দেশদর্পনকে বলেন, বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার জন্য। কিন্তু বৃষ্টি আর ঠা-ার কারণে গাড়ি-ঘোড়া কম। সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারিনি। এখন একঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছি বাসায় যাওয়ার জন্য, রিকশা পাচ্ছি না। মাঝে মধ্যে সিএনজি বা রিকশা আসলেও তিনগুণ বেশি ভাড়া চায়।

এদিকে, বৃষ্টির কারণে সিলেট নগরের রেজিস্ট্রি মাঠে আয়োজিত সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির কার্যক্রম কিছুটা বিঘিœত হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে দলের কর্মসূচিও কিছুটা সংক্ষিপ্ত করতে হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, স্থল নিম্নচাপের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়ার অফিসের এক সতর্কবার্তায় শনিবার জানানো হয়, নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চর স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট বেশি উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে বায়ু চাপের তারতম্য এবং গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হওয়ায় দেশের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা হ্রাস পাবে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়।

ইমা/আ-ইফ

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর