দেশদর্পণ ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২:১৭ অপরাহ্ণ




সিলেটে ওয়াজ মাহফিলে দু’পক্ষের বির্তকে সংঘর্ষ: নিহত ১, আহত ৫০

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় ওয়াজ মাহফিল নিয়ে সুন্নী মতাদর্শী ও ওয়াহাবি মতাদর্শীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক লোক। আহতদের মধ্যে এনামসহ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক।

এঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলার বিভিন্ন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে উপজেলার আমবাড়িতে সুন্নী মতাদর্শীদের আয়োজিত একটি ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত মোজাম্মেল হোসেন উপজেলার হরিপুর ক্বওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের ছাত্র।

সোমবার রাত ১১টা থেকে টানা ৪ ঘন্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ চলে। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। আহতদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষের জেরে উপজেলার আমবাড়ি, ঝিঙ্গাবাড়ি ও কাঠাল বাড়ি নামের তিনটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে উপজেলার বাংলাবাজার আমবাড়ি এলাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমানের নেতৃত্বে গ্রামবাসীর ব্যানারে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে সুন্নী মতাদর্শী ও ওয়াহাবী মতাদর্শীদের এক মঞ্চে ডাকা হয়। মঞ্চে একপর্যায়ে দু’পক্ষের বক্তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হলে- ওয়াহাবী মতাদর্শী বক্তার উপর সুন্নীরা নিচ থেকে চেয়ার ছুড়ে মারলে সংঘর্ষের সুচনা হয়। এর পরপরই উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই এ সংঘর্ষ বৃহৎ আকার ধারণ। দু’পক্ষের হাজারো লোক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

সংঘর্ষের জের ধরে রাত ২টায় স্থানীয় মুসল্লীরা সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করেন। এর প্রতিবাদে সিলেট নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে কাজিরবাজার মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাঁন মো. মঈনুল জাকির দেশদর্পণকে বলেন, ‘সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা ছাত্র মারা গেছে। অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। উপজেলার আনাচে-কানাচে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

একপ্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, ‘ওই এলাকায় কোন ওয়াজ মাহফিল বা বির্তকের জন্য পুলিশের অনুমতি নেয়া হয়নি। এমন কী অবগতও করা হয়নি।’

ইমা/বেআ

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর