সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ




সিলেটে ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

দেশদর্পণ ডেস্ক :: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের নয় গোটা এশিয়ার নেতা ছিলেন। তিনি সার্কের স্বপ্ন দেখেছিলেন।’ গত শনিবার সন্ধ্যায় সিলেটের জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ. আরাফাত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এড. লুৎফুর রহমান, মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠক ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’র সমন্বয়ক কাসমির রেজা।

নন্দিতা দত্ত ও কাসমির রেজার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে গানের দল ‘গীতবিতান’। আবৃত্তি পরিবেশন করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিকার মোকাদ্দেস বাবুল, সাইমুম আঞ্জুম ইভান, সুকান্ত গুপ্ত ও গুলজার আহমদ।

মূখ্য আলোচকের বক্তৃতায় ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ছিলেন সেই নেতা যার একক নির্দেশে কোটি বাঙালি একটি অস্ত্রসজ্জিত প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এটি বিশ্বে আর কোন নেতার পক্ষে সম্ভব হয়নি।’ এসময় তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত সহকারি হিসেবে তাঁর সাথে আমি বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেছি। তার চরিত্রে বিন্দুমাত্র কলঙ্ক দেখেনি। তাঁর সময়ে কোন দুর্নীতি হয়নি। তাঁর ক্ষমতায় থাকায় শেষ বছর ১৯৭৪-৭৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল শতকরা ৮ ভাগ। যা এখন পর্যন্ত আর কোন সরকারের আমলে হয়নি।’ দেশের স্বার্থে তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম সম্বন্ধে জানতে হবে।’

প্রায় দীর্ঘ একঘন্টা ধরে তিনি জাতির জনকের জীবনের নানা স্মৃতি ও ঘটনাবলী তুলে ধরেন। হলভর্তি দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনেন তার বক্তৃতা। তিনি বলেন, ‘আমি ৭৭ বছর বয়স্ক হলেও নিজেকে এখনও তরুণ মনে করি। আমার এখনো অনেক কিছু করার বাকী রয়েছে।’ এসময় তিনি তরুণদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার সহযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তরুণদের বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারে রোজনামচা’ বইগুলো বেশি বেশি করে পড়তে হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হেব। তাঁর জীবনসংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ. আরাফাত বলেন, ‘জাতির জনকের আদর্শকে গণমানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার স্বার্থে সব বিবেদ ভুলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলেন লোডশেডিং হচ্ছে। শেখ হাসিনা দেশের বিদ্যুতের গ্রাহক ৪৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮০ শতাংশ করেছেন। বাড়তি ৩৭ ভাগ মানুষ যে বিদ্যুৎ পেয়েছে তাদের কথা কেউ বলে না। তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তাদের কথা বলার কেউ নেই। আছেন শেখ হাসিনা।’

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর