আইন-আদালত, লিড নিউজ, সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

৯ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ




সিলেটে আন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে তোলপাড়

দেশদর্পন প্রতিবেদক: সিলেটে হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর লাশ রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী- এমন খবরে সিলেটজুড়ে তোলপাড়া চলছে। তবে, কিভাবে এই নারীর মৃত্যু হলো তা নিয়ে পরিষ্কার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিয়ের মাত্র নয় মাসে ভবিষ্যত সন্তানের মুখ দেখে যখন আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা ঠিক তখনই এমন কান্ড কেন কিভাবে ঘটেছে তা নিয়ে কৌতুহল সর্বমহলে। আন্তঃসত্ত্বা এই নারী মারা যাওয়ার কারণ, আর স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে রেখে স্বামীর পালিয়ে যাওয়া নিয়ে জানার আগ্রহ সবার।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে, মঙ্গলবার রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাপসাতালে চম্পা রানী মালাকার (২৫) নামের আন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুকে নিয়ে আসেন প্রতিবেশিরা। হাসপাতালে তারা নিয়ে গেলে শারিরিকভাবে ব্যথা পাওয়ার কথা বলে জরুরি বিভাগে দেখান। এসময় পরিবারের কোন সদস্য চম্পার সঙ্গে ছিলেন না।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গলে থাকা তার স্বামী রাজারগাঁও হাটখোলা গ্রামের মৃত রবীন্দ্র সূত্রধরের ছেলে নকুল সূত্রধর হাসপাতালে যান। কিন্তু তখনই খবর পান তার বিরুদ্ধে পূর্বের কোন মামলার ওয়ারেন্ট নিয়ে পুলিশ হাসপাতালে হাজির হয়েছে। এখবর জানার সঙ্গে সঙ্গে নকুল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। নকুল সরে যাওয়ায় রানীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশিরাও বেশিক্ষণ সেখানে থাকেননি।

সকালে অভিভাবকবিহীন লাশ হিমঘরে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। খবর পাওয়ার পর গৃহবধূর বাবার বাড়ির লোকজন হাসপাতালের হিমঘরে গিয়ে লাশের সন্ধান পায়। তবে ওখানে স্বামীর পক্ষের কাউকেই তারা পাননি। বুধবার চম্পার লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তার বাবার বাড়ির লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন চম্পার পরিবারের লোকন। চম্পা রানী মালাকার সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সদরখলা গ্রামের মৃত বিমল মালাকারের মেয়ে ও সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার রাজারগাঁও হাটখোলা গ্রামের নকুল সূত্রধরের স্ত্রী।

গৃহবধূ চম্পার চাচী নিবু মালাকার থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রায় ৯ মাস আগে সিলেট শহরতলীর রাজারগাঁও হাটখোলা গ্রামের মৃত রবীন্দ্র সূত্রধরের ছেলে নকুল সূত্রধরের সঙ্গে চম্পার বিয়ে হয়। এরপর থেকে নকুল যৌতুকের দাবিতে চম্পাকে নির্যাতন করে আসছিল।

চম্পার ভাই উজ্জ্বল মালাকার জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি চম্পার ডেলিভারির কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে ফোন করে জানানো হয় চম্পা ওসমানী হাসপাতালে মারা গেছে। খবর পেয়ে ওসমানী হাসপাতালে গেলে চম্পার লাশ হিমঘরে দেখতে পান তারা। তিনি অভিযোগ করেন, তার বোন চম্পাকে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে ফেলে স্বামী নকুল পালিয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফারুক আহমদ বলেন, রাতে চম্পার লাশ নিয়ে হাসপাতালে আসেন কিছু লোক। তবে, তার শ্বাশুড়ি বা স্বামীর পরিবারের কেউ তখন সঙ্গে ছিল না। স্বামী নকুল হাসপাতালে এলেও কিছুক্ষণ পর আর দেখা যায়নি। আন্তঃসত্ত্বা এই নারীকে হত্যা করা হয়েছে কি-না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর