মতামত, সোশ্যাল মিডিয়া



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩১ মার্চ ২০১৮, ১২:২১ অপরাহ্ণ




সমাজসিদ্ধ কিছু কাজ ছাড়া বাকীটা স্ত্রীর কাছে অকাজ বলে গণ্য

তামান্না সেতু
আমাদের বিয়ের পরের অনেক ছবি রাজু তুলেছিল। রাজু তো এখন খুব নাম করেছে পাখির ছবি-টবি তুলে। মানুষের ছবি তুলে নাম করতে পারলো না কেন কে জানে! রাজুর তখন তুমুল প্রেম এক মেয়ের সাথে, নাম বলা যাবে না সঙ্গত কারণে। সেই মেয়ের সাথে রাজুর তো হলো না শেষ অব্দি। ও খুব কেঁদে কেটে সদরঘাট গিয়ে বসে থাকতো। আমি বাবারে সোনারে বলে আমার বাসায় নিয়ে আসতাম। রাজু শোয়েবের ইউনির ছোট ভাই। কিন্তু এইটুকু শুনে ওর সঙ্গে আমাদের আত্মার যে সম্পর্ক তা আঁচ করা যায় না। রাজু আমাদের অনেকখানি।

মেয়েটা খুব ক্যারিয়ারিস্ট ছেলে চাইতো, রাজু তেমন নয়। ও টাকা জমায় আর ক্যামেরার লেন্স কেনে, টাকা জমায় আর টেকনাফ তেতুলিয়া ঘুরে বেড়ায় পাখির ছবি তুলতে। আমাদের মেয়েদের মতে এমন ছেলেকে তিন মাস ভালোবাসা যায়, এর বেশি কিছু ভাবা নৈব নৈব চ।

অথচ শোয়েবের সঙ্গে আমার যখন বিয়ের হয় তখন সে এক্কেবারে বেকার। আমি কুয়েত এয়ারওয়েজে কাজ করি। ও বিয়ের দিন সোহানের কাছ থেকে টাকা ধার করে এনেছিল কাজী অফিসের খরচের জন্য। পরে সে কথা শুনে আমার খুব রাগ হয়েছিল, আমিই তো পারতাম টাকাটা দিতে। পরে যদিও আমি সোহানকে শোধ করে দিয়েছিলাম। বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস সে কোন কাজই করলো না। আমি রোজ অফিসে যাবার সময় ওর হাত খরচ রেখে যেতাম। তারপর তো কাজ ধরে আর ছাড়ে। কোনটাতেই তিন মাসের বেশি না। পরে তো সে তার মনের মতো কাজ খুঁজে পেলো, তার বাতিঘর। এখন সে বিশ্রাম জানে না।

একটা ব্যাপার আমার মাথায় ধরে না, চাকুরে ছেলে তো বেকার মেয়ে বিয়ে করছে। সেই মেয়েরা গৃহিণী হয়ে গৃহিণীও যে একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটা প্রমাণে প্রাণ দিয়ে দিচ্ছে। তা এতোই যদি সম্মানের কাজ বলে বিশ্বাস করো ঘর গেরস্তলী কাজকে তবে ঘরে বসে স্বামী ঘরের কাজ করবে তাতে নাক সিটকানো কেন?

গেরস্ত নারী যে সম্মান নিজের অবস্থানের জন্য চায়, সেই সম্মান নারী কী পেরেছে কোন পুরুষকে দিতে? দুই মাস স্বামী ভাই বাবা বেকার থাকলে সে কথা পাছে অন্য কেউ যেন না জানে তার জন্য কী প্রাণান্তর চেষ্টা! স্বামী চাকরি করে না বলতে সেকি অসম্মান তাদের! অথচ এই অকালের শহরে আমি কতো ছেলেকে অসহায় হয়ে বলতে শুনেছি, “একার আয়ে চলে না, তবু বউটা কিছু করতে চায় না। কিছু বললেই বলে, “পালতে পারবে না তবে বিয়ে করলে কেন?” এদেশে “আমি কিন্তু চাকরি করতে পারব না” এ কথা বলার স্বাধীনতা বোধ করি কেবল নারীরই আছে। যদিও কারোরই এ কথা বলা উচিত নয়।

অর্ধাঙ্গীনি ডাকে তারা খুব খুশি। কোনদিন স্বামীর দায়িত্ব না নিলে এই ডাকের সম্মান থাকে?

সমাজসিদ্ধ কিছু কাজই কেবল কর্ম, বাকী কাজ স্ত্রীর কাছে অকাজ বলে গণ্য হওয়ায় কতো গায়ক, শিল্পী, লেখককে তাদের ভালোলাগার কাজ ছাড়তে হয়েছে। অথচ এই বিষয়গুলো সম্মানজনক পেশা হতে পারে তা নারীকুল বুঝেনি।

মন বুঝার অংকে নারী পুরুষ দুকুলেরই ফলাফল হয়তো সমান। তবে, বেকারত্ব নিয়ে অসম্মান বোধ আর চাকরী করা না করার স্বাধীনতায় এ দেশের পুরুষেরা নিষ্পেষিত এই কথা সত্য।

লেখক- পরিচালক, বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর