আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৯ নভেম্বর ২০১৭, ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ




‘সবচেয়ে শক্তিশালী’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি উ. কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, নতুন ধরনের এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দীর্ঘ পাল্লার সবচেয়ে শক্তিশালী। মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি সংগঠন বলছে, উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও অংশে আঘাত হানতে সক্ষম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়াকে জবাব দিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বুধবার দিনের আলো না ফুটতেই হোয়াসং-১৫ নামের ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালায় পিয়ংইয়ং। পরে তা জাপানের পানিসীমায় পতিত হয়। পিয়ংইয়ং এর দাবি, এ ক্ষেপণাস্ত্রটি সবচেয়ে শক্তিশালী। উত্তর কোরিয়া আগে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছিল সেগুলোর চেয়ে বেশি উঁচু দিয়ে উড়ে গেছে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, পিয়ংইয়ং পারমাণবিক দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করেছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ বলছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪,৪৭৫ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়েছে এবং ৫৩ মিনিটে ৫৯০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যক্তিগতভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটির উঃক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। তিনি বলেন, ‘গর্বের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে শেষ পর্যন্ত আমরা উপলব্ধি করেছি পারমাণবিক শক্তির দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জন ও রকেট শক্তি তৈরির পেছনে বিশাল ঐতিহাসিক কারণ রয়েছে। ’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টস’ এক বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এবারের ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৩ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনও স্থানে সেটি পৌঁছানো সম্ভব।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে,মিসাইলটি আকাশে থাকতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আর ট্রাম্প পরে বলেছেন, ‘আমরা এটা দেখছি’।

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী পরমাণু ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে উ. কোরিয়া। তবে দক্ষিণে থাড নামে পরিচিত উচ্চ প্রযুক্তির মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা মোতায়েন নিয়ে গত বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে দেশটি। দ. কোরিয়ায় উচ্চতর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণার বিপরীতে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করে উ. কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিপরীতে একে তারা যোগ্য জবাব (ফিজিক্যাল রেসপন্স) বলে মনে করে। ব্যালাস্টিক মিসাইলের সর্বশেষ পরীক্ষাটি তারা চালিয়েছিল গত সেপ্টেম্বরে। ওই মাসেই তারা ষষ্ঠ পারমাণবিক পরীক্ষাও চালিয়েছিল।

বেআ/আবে

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর