বিনোদন



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ




শ্রীদেবীর মরদেহ নিয়ে আইনি জটিলতা, ফেরার দিনক্ষণ অনিশ্চিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: শ্রীদেবীর মৃত্যুর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার দিনক্ষণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজন অমর সিং জানিয়েছিলেন, ২৬ তারিখ দিনগত রাতে স্বনামধন্য ভারতীয় অভিনেত্রী শ্রীদেবীর মরদেহ ভারতে পৌঁছাবে। তবে মধ্যপ্র্যাচ্যের দুই সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এবং খালিজ টাইমস সূত্রে জানা গেছে, নন্দিত এই তারকার মরদেহ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। আমিরাতের ভারতীয় দূতাবাসের টুইটার একাউন্ট থেকেও তার মরদেহ ফেরার দিনক্ষণ নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। বলা হয়েছে, এ ধরনের কাজে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দুই/তিন লেগে যেতে পারে। এরইমধ্যে শ্রীদেবীর মৃত্যুর তদন্তভার পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলের বাথরুমে শনিবার রাতে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তার। আমিরাতের আইন অনুসারে হাসপাতালের বাইরে যে কোনও মৃত্যু হলেই সেখানে ময়না তদন্ত বা ফরেনসিক অনুসন্ধান বাধ্যতামূলক। সেই প্রক্রিয়ায় অন্তত ২৪ ঘন্টা সময় লাগে বলেই শ্রীদেবীর পরিবার চাওয়া সত্ত্বেও তার মরদেহ রবিবার ভারতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের পক্ষ থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে হোটেলের বাথটাবে ডুবে মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। খালিজ টাইমস ও গালফ নিউজ তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শ্রীদেবীর ময়না তদন্ত রিপোর্টে জলে ডুবে মৃত্যুর কথাই বলা হয়েছে। রক্তে মিলেছে অ্যালকোহল। তবে খালিজ টাইমস জানিয়েছে, হৃদরোগে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়নি। আবার এখনও এই মৃত্যুর পেছনে কোনও ‘ক্রিমিনাল মোটিভ’ বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কাপুর পরিবারের ঘনিষ্ঠজন অমর সিং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে গতকাল(২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জানান, শ্রীদেবী মরদেহ ভারতীয় সময় মধ্যরাতে এসে পৌঁছাবে। তবে মধ্যরাত পেরিয়ে ভারতীয় সময় সকাল ৬ টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মরদেহে ভারতে এসে পৌঁছায়নি। আমিরাতের স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস খবর দিয়েছে ফরেনসিক রিপোর্টে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যৃর আলামত মেলার কারণে, স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই শ্রীদেবীর মৃত্যুর তদন্তভার পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

আমিরাতের একজন মুখ্য প্রসিকিউটর গালফ নিউজকে জানিয়েছেন, আমিরাতের স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া মেনেই এমন দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফরেনসিক ও পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট পাবলিক প্রসিকিউটরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রসিকিউটর সেই রিপোর্টগুলো খতিয়ে দেখার পর মরদেহ হস্তান্তরের নির্দেশনা দেয়। তবে কোনও ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার সঙ্গে অপরাধের আলামত মিললে তা নিয়ে নতুন করে তদন্ত কাজ শুরু হয়।

আমিরাতের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নয়দ্বীপ সিং ২৬ তারিখে জানিয়েছিলেন, শ্রীদেবীর মরদেহ ফেরানোর ব্যাপারে আমিরাত-কর্তৃপক্ষের অনুমতি মিলেছে। তবে দিনশেষে এক টুইটার বার্তায় তিনি জানান, শ্রীদেবীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তারা। কবে মরদেহ ভারতে পৌঁছাতে পারে, সে ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি ভারতীয় দূতাবাসে পক্ষ থেকে। নয়দ্বীপ সিং তার অফিশিয়াল টুইটার পোস্টে লিখেছেন, এ ধরনের ঘটনায় ২/৩দিন সময় লেগে যায়।

খালিজ টাইমন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, শ্রীদেবীর মৃত্যুর কারণ হিসেবে তদন্ত প্রতিবেদনে জলে ডুবে মরার আলামত মেলার পর থেকেই তার মরদেহ কবে ফিরবে, তা অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

বেআ/আবে

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর