জাতীয়, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০১৮, ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ




শোকে পাথর মাহি’র দু’চোখে যেন মহাঘোর, শুধুই শূন্যতা

দেশদর্পণ ডেস্ক :: অসহনীয় শোকে যেন স্তব্দ হয়েেগেছেন তানজিদ সুলতান মাহি। কোন বিকার নেই, চোখও যেন শুকিয়েেগেছে তার। বাবা ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ক’দিন আগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। সেই শোকে চলে গেলেন মা আফসানা খানম টপিও । মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুখোমুখি হতে হয়েছে কঠিন বাস্তবতার। সেই বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই নিজ হাতে মা আফসানা খানমকে বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছেন মাহি। ফ্যাল ফ্যাল দৃষ্টিতে যেন তার মহাঘোর।

বাবাকে হারানোর ১১ দিনের ব্যবধানে মা আফসানা খানমকেও হারিয়ে শোকে ‘পাথর’ হয়ে গেছে মাহি। রাজধানীর উত্তরার বাসার গ্যারেজে শুক্রবার বিকালে দাঁড় করানো অ্যাম্বুলেন্সে আফসানা খানমের লাশ ওঠানো হল। চালকের পাশে বসানো হল তার একমাত্র ছেলে তানজিদ সুলতান মাহিকে। তাকে ধরে পাশে বসলেন চাচা খুরশিদ মাহমুদ। মাহির চোখে একরাশ শূন্যতা ছাড়া যেন আর কিছু নেই।

১২ মার্চ নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় মারা যান মাহির বাবা পাইলট আবিদ সুলতান। শুক্রবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মা আফসানা খানমও। এ শোকে স্তব্ধ মাহি কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছে না, এমনকি কান্নাও করছে না।

মাহির মামা খন্দকার রেজাউল করিম বলেন, ‘ছেলেটি (মাহি) একা হয়ে গেল। সে একেবারে চুপ হয়ে গেছে। সে কান্না করছে না। কাঁদলে হয়তো তার মন হালকা হতো। আবিদের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী আফসানাও কাঁদেননি। শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। তখন মাহি তার মায়ের পাশেই ছিল। আর বাবা-মাকে হারিয়ে এখন ছেলেও কাঁদছে না। মাহিকে নিয়েই এখন যত চিন্তা।’

এদিকে শুক্রবার বিকালে বনানীর সামরিক কবরস্থানে আফসানাকে তার স্বামী আবিদের পাশেই কবর দেয়া হয়েছে। বাদ আসর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরের গাউছুল আজম জামে মসজিদে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

আফসানার চাচা ইয়াদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোরেই আমরা খবর পাই আফসানার অবস্থা আরও খারাপের দিকে। সকাল সাড়ে ৯টায় খবর পাই আফসানা মারা গেছে।’

ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. বদরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সম্ভব সব চেষ্টাই করেছি। সকালে আফসানার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। এরপর আর করার কিছু ছিল না।

দুপুরের পর আফসানার লাশ আনা হয় উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের বাসায়। তখনও মাহিকে জানানো হয়নি তার মায়ের মৃত্যুর খবর। কিছুক্ষণ পর মাহিকে তার স্বজনরা আফসানার মৃত্যুর খবর জানান। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর খবর শুনেও তার মধ্যে দৃশ্যমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখতে পাননি স্বজনরা। সে একদম চুপ হয়ে যায়। ওই সময় তাকে মায়ের লাশ দেখানো হয়নি। স্বজনরা তাকে নিয়ে একটি কক্ষে বসে থাকেন, সান্ত্বনা দেন, কিন্তু তার কান্নাও আসে না, সে কোনো কথাও বলে না। বিকাল ৫টার দিকে মাহিকে তার মায়ের লাশ দেখানো হয়।

মাহির নানা ইয়াদ আলী বলেন, মায়ের মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ হয়ে গেছে মাহি। ওকে আমরা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।

স্বজনরা জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর এখন মাহি তার চাচা খুরশিদ মাহমুদের কাছে থাকবেন। খুরশিদ মাহমুদ একজন চিকিৎসক। তিনি পরিবার নিয়ে পল্লবীতে থাকেন। ১২ মার্চ কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজের ৭১ আরোহীর মধ্যে ৫১ জন নিহত হন। আর আহত হন ২০ জন। নিহতদের মধ্যে বিমানের পাইলট, কো-পাইলট ও দুজন ক্রুসহ বাংলাদেশের ২৬ জন, নেপালের ২৪ জন ও চীনের একজন। এছাড়া আহতদের মধ্যে ১০ জন বাংলাদেশি, নয় জন নেপালের ও একজন মালদ্বীপের নাগরিক।