আন্তর্জাতিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

23 December 2020, 3:17 AM




যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের করোনা, আতঙ্ক সিলেটেও

যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের (স্ট্রেইন) সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সিলেটে সরাসরি ফ্লাইট থাকার কারণে এক ধরণের আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয়দের মধ্যে। যুক্তরাজ্যের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে নতুন প্রজাতির এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি ইউরোপের দেশ ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক ও অস্ট্রেলিয়ায়ও নতুন ধরনের এ ভাইরাসটির সন্ধান পাওয়া গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধেরও দাবি তুলছেন অনেকে।

মারাত্মক উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে গত সোমবার হঠাৎ করেই লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের বিরাট অংশজুড়ে লকডাউন জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের উদৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘নতুন এ ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার হার ৭০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি। নতুন এই ভাইরাসটির আতঙ্কে ইউরোপসহ বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সর্বশেষ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশেরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মহিবুল হক বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে মাত্র একটি বিমান চলাচল করে। সেটি বন্ধ করা হবে কিনা সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। সুতরাং চলমান পদ্ধতিতে বিমান চলাচল করবে বলে জানান তিনি।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইউরোপসহ অনেক দেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। প্রতিবেশী ভারতও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ অবস্থায় আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। বিশেষজ্ঞসহ সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করা হয়েছে। সুতরাং সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে দ্রুতই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

করোনা প্রতিরোধে সরকার গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. সহিদুল্লা বলেন, যুক্তরাজ্যে নতুন ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে ইউরোপের দেশগুলো সে দেশের সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সৌদি আরব এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সুতরাং বাংলাদেশেরও এ বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত যত বিমান আছে, সেগুলোর বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে। কারণ নতুন ধরনের এ ভাইরাস খুব প্রাণঘাতী না হলেও উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ।

নতুন ধরনের ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে : বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগেরটির তুলনায় নতুন করোনাভাইরাস ৭০ শতাংশ বেশি হারে ছড়াচ্ছে। যুক্তরাজ্যে হঠাৎ করে লকডাউনের পেছনে এই ভাইরাসটির দ্রুত ছড়িয়ে পড়াই কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল বলে তাদের এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়েছে। এবারের লকডাউন আগামী দুই মাস ধরে চলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মূলত তিনটি কারণে এই ভাইরাসের নতুন রূপটি সবার জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন ভাইরাসটি অন্যান্য সংস্করণকে দ্রুত প্রতিস্থাপন করছে। এটিতে এমন মিউটেশন রয়েছে, যা ভাইরাসের অংশকে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ মিউটেশনের মাধ্যমে ভাইরাসটির সংক্রমিত হওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কভিড-১৯ জেনোমিক্স ইউকে (কগ) নামে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক নিক লোম্যান বলেন, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে ধারণার তুলনায় বিস্ময়কর রকমের বেশি সংখ্যায় মিউটেশন হয়েছে।

সূত্র : সমকাল

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর