দেশদর্পণ ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০১৮, ১০:৪২ অপরাহ্ণ




মোমবাতি ও চোখের জ্বলে স্মরণ

দেশদর্পণ ডেস্ক :: নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারানো সেই রফিক জামান ও তার পরিবারকে স্মরণ করলেন তারই গড়ে তোলা সংগঠনের কর্মীরা, যাদের অধিকার আদায়ে লড়াই করেছেন সেই প্রতিবন্ধীরা। রফিক জামান মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের অধিকার আদায়ে গড়ে তুলেছিলেন প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) ও সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাংগুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল)।

বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রফিক জামান রিমু, তার স্ত্রী সানজিদা হক ও সন্তান অনিরুদ্ধ জামানকে স্মরণ করতে সংসদ ভবনের মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হতে থাকেন বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা। তাদের মধ্যে কেউ এসেছেন হুইল চেয়ারে, কেউ এসেছেন সঙ্গীকে নিয়ে। হাতে মোমবাতি নিয়ে তারা শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন প্রিয় রিমু ভাইকে কিংবা রফিক আংকেলকে।

কেবল রফিক জামান নয়, তার স্ত্রী সানজিদা হকও তার সহকর্মী-বন্ধুদের কাছে ছিলেন প্রিয় মুখ। সুশাসনের জন্য নাগরিকে (সুজন) কাজ করতেন তিনি। তার সেখানকার সহকর্মীরাও ছুটে এসেছেন সানজিদার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

রফিক জামানের হাতে গড়ে তোলা সংগঠন পিএনএসপি ও এসডিএসএলের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই কর্মসূচি পালিত হয়। মোমবাতি প্রজ্বালন করে শ্রদ্ধা জানান তার প্রতি।

আয়োজকরা জানান, ২০০৭ সাল থেকে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামে কাজ শুরু করেন রফিক জামান। ফোরামে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ২০০৮ সালে তাদের সংগঠিত করেন তিনি। গড়ে তোলেন সোসাইটি অব দ্য ডেফ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্স (এসডিএসএল)। প্রতিষ্ঠাতাকালীন কোষাধ্যক্ষও ছিলেন তিনি।

রফিক জামান মনে করতেন, শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীরা কেবল ভাষাগত যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতার কারণে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই তিনি প্রথম বাংলা ইশারা ভাষার স্বীকৃতি নিয়ে কথা বলেন, ইশারা ভাষা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করেন দোভাষী।

২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রফিক জামানের প্রচেষ্টায় বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বাংলা ইশারা দোভাষী ব্যবহার করা হয়। ২০১০ সাল থেকে বাংলা ইশারা ভাষা দিবসও পালন করছে এডিএসএল। এই দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিও ছিল তাদের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৬ জানুয়ারি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তৃতীয় গ্রেডের সরকারি দিবস হিসেবে ৭ ফেব্রুয়ারিকে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন তারা রিমু ভাই বা রফিক আংকেলকেরফিক জামান মনে করতেন, নির্যাতিত ও ধর্ষণের শিকার শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারী ও শিশুরা যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতার সমাজে কারণে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য থানাসহ জেলা আদালতে জবানবন্দি নেওয়ার জন্য বাংলা ইশারা ভাষায় প্রশিক্ষিত দোভাষীদের সহায়তা রাখার উদ্যোগ নেন তিনি। এক পর্যায়ে বাংলা ইশারা ভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা ও ইশারা ভাষা আইন প্রণয়ন নিয়েও তিনি কাজ করেছেন।

এসডিএসএল ও পিএনএসপি’র সভাপতি এম ওসমান খালেক, পিএনএসপি’র সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব, বি-এসসিএএন’র সভাপতি সাবরিনা সুলতানা, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম প্রমুখ উপস্থিত হয়েছিলেন রফিক জামান ও তার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এই আয়োজনে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করতে গিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। ওই উড়োজাহাজে থাকা ৬৭ যাত্রীসহ ৭১ আরোহীর ৫১ জনই নিহত হয়েছেন। ফ্লাইটের ৩২ যাত্রীসহ ৩৬ বাংলাদেশির মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। পারিবারিক ভ্রমণে নেপালে যাওয়া রফিক জামান রিমু, তার স্ত্রী সানজিদা হক ও সন্তান অনিরুদ্ধ জামান ওই দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর