খেলাধুলা, জাতীয়



দেশদর্পণ ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০১৮, ১১:২৬ অপরাহ্ণ




মুশফিকের ৭২ রানের ইনিংসের পরও হেরে গেলে বাংলাদেশ

দেশদর্পণ ক্রীড়া ::  বাংলাদেশের হয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক ভারত ম্যাচেও খেলেছেন অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস। কিন্তু যোগ্য কোন সঙ্গীর অভাবে জয় নিয়ে ফেরা আর হলো না মুশফিকের। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারতের ১৭৬ রানের জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান সংগ্রহ করতে পারে বাংলাদেশ।

ভারতের বিপক্ষে ১২ বছর ধরে টি২০ জয়ের অপেক্ষা শেষ হলো না। ২০০৬ সালে প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। এরপরে ভারতের বিপক্ষে জয় অধরাই রইল বাংলাদেশের। শ্রীলংকার বিপক্ষে রেকর্ড জয়ের পরে ভারতের বিপক্ষে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল মাহমুদুল্লার দল। কিন্তু দ্রুত উইকেট হারিয়ে তা আর হলো না।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৭৭ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। কিন্তু রান তাড়ায় দ্রুত উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৬১ রানেই বাংলাদেশের টপ অডারের চার ব্যাটনম্যান ফিরে যান। এরপর যা লড়াই করেছেন আগের ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মুশফিকুর রহিম। তার ব্যাটে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছে কিন্তু জয় পায়নি। হেরেছে ১৭ রানে।

বাংলাদেশ ১২ রানে শ্রীলংকার বিপক্ষে দারুণ খেলা লিটন দাসের উইকেট হারায় এরপর তিনে ব্যাট করা সৌম্য সরকারও দ্রুত ফিরে যান। এরপর দারুণ খেলতে থাকা তামিমে স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তিনিও ১৯ বলে ২৭ রান করে সুন্দরের শিকার হন। বাকি লড়াইটা একাই করেছেন মুশফিক। তার সঙ্গে ২৩ বলে ২৭ করে সাব্বির যা একটু সঙ্গ দিয়েছেন। ভারতের হয়ে ৪ ওভার বল করে ২২ রানে ৩ উইকট নিয়ে ওয়াশিংটন সুন্দর একাই বাংলাদেশ ইনিংসের কোমর ভেঙে দিয়েছেন।

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান তোলে। ভারতের হয়ে শেখর ধাওয়ান ২৭ বলে ৩৫ রান করেন। এছাড়া অফ ফর্মে থাকা রোহিত শর্মা ৫ চার ও ৫ ছয়ে ৬১ বলে ৮৯ রান করে ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়েছেন। টি২০ তে নিজের ১৩ তম অর্ধ শতক পূর্ণ করেন তিনি। এছাড়া সুরেশ রায়না ৩০ বলে ৪৭ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে রুবেল হোসেন ৪ ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৭ রানে ২ উইকেট নেন।

মুশফিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে জিতেও নাগিন ড্যান্স দিতে চান তিনি। তার আশা পূরণ হয়নি। নাগিন ড্যান্স দেয়ার সুযোগ পাননি তিনি; কিন্তু মুশফিক নিজেও কি হেরেছেন? ভারতের মোহাম্মদ শিরাজ, শার্দুল ঠাকুর, ওয়াশিংটন সুন্দর, ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল কিংবা বিজয় শঙ্কররা সাঁড়াশি বোলিং করার কারণেই বাংলাদেশ হেরেছে ১৭ রানের ব্যবধানে।

কিন্তু মুশফিক তো থেকে গেলেন অপরাজিত। তিনি হারেননি। তিনি অপরাজেয়। ভারতীয় বোলাররা তাকে ছুঁতেও পারেনি। বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত ম্যাচের নায়ক হয়ে রইলেন মুশফিকই। সুতরাং, মুশফিক হারেরনি, হেরেছে বাংলাদেশ।

ভারতের রোহিত শর্মার (৮৯) সঙ্গে সুরেশ রায়না ৪৭ এবং শিখর ধাওয়ান ৩৫ রান করে যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে মুশফিককে যদি তেমন দু-তিনজন সহযোগিতা করতে পারতেন, তাহলে বাংলাদেশও হয়তো জিতে যেতে পারতো। তখন, মুশফিক তো হারতেনই না, জয় পেতো বাংলাদেশও।

প্র.প/আ-প্র.প

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর