সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১:২৯ অপরাহ্ণ




মিয়াদ হত্যাকাণ্ড : ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ছাত্রলীগের জেলা কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুনের ঘটনায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে থানায় মামলা করেছেন নিহতের পিতা। এদিকে মামলা দায়েরের পর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

বুধবার রাতে নিহত মিয়াদের বাবা আবুল মিয়া ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪-৫ জনকে আসামি করে মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় মামলাটি করেন। আসামিদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এর পরপরই কেন্দ্র থেকে জেলা কমিটি বিলুপ্তের ঘোষণা আসে।

মামলায় যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হচ্ছেন, ছাত্রলীগ কর্মী তোফায়েল আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সরোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের খান, জেলা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফাহিম শাহ্, জেলা ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক রাফিউল করিম মাসুম, কর্মী রুহেল, শওকত হাসান মানিক এবং গ্রেপ্তারকৃত তোফায়েলের ভাই ফকরুল আহমদ। এদের মধ্যে ঘটনার দিন ফকরুল আহমদকে এবং একদিন পর ঢাকা থেকে তোফায়েল আহমদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তোফায়েল এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ জানায়।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন। তিনি বলেন, নিহতের বাবা আবুল মিয়া বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা (মামলা-৬, তাং ১৪/১০/১৭) করেছেন।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ হত্যার পর ছাত্রলীগের সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। বুধবার রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সিলেট জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।’ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে সিলেট জেলা শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে ছাত্রলীগ কর্মী মিয়াদ খুনের ঘটনায় সিলেট ছাত্রলীগে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরস্পর দোষারোপ করে চলেছেন ছাত্রলীগ নেতারা। তার প্রভাব পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। মিয়াদ হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর টিলাগড় গ্রুপ ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। গত বুধবার রাত ৯টা ৫১ মিনিটে নিজের ফেসবুকে টাইমলাইনে প্রথমে মন্তব্য করেন সদ্য বিলুপ্ত সিলেট জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি এম রায়হান চৌধুরী। তিনি লেখেন, ‘সম্পূর্ণ হিংসার বশবর্তী হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ষড়যন্ত্রমূলক, সাজানো, মিথ্যা হত্যা মামলায় যারা আজ আমাকে ফাঁসিয়েছেন, মনে রাখবেন ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করেনি, করবেও না। আমি ভীত নই, সত্য কে সত্য, আর মিথ্যা কে বলে যদি ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়াতে হয় আমি নির্দ্ধিধায় তা বরণ করে নিবো। সত্যের মৃত্যু নেই। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ এর পরপরই নিজের ফেসবুকে মন্তব্য পোস্ট করেন টিলাগড় গ্রুপের আরেক বলয়ের নেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক জেলা সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপু। তিনি লিখেন, ‘সোমবারে যে খুন হয়েছিল সে জাকারিয়া মাহমুদ মাসুম নয়, সে ওমর মিয়াদ। সব কিছু নিয়ে খেলা খেলার চেষ্টা করবেন না। হুমকি ধামকি দিয়ে কোন লাভ নেই। মনে রাখবেন হিরন মাহমুদ এর গুর্দা সব মানুষের মত বাম পাশে নয়। প্রত্যেকটি আসামি গ্রেফতার হবে যে হবেই। হিরন ফকিরের ঘরে জন্ম নেয়নি যে লাশ বিক্রি করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার বিকেলে সিলেট নগরের টিলাগড় এলাকায় নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন ওমর আহমদ মিয়াদ (২২)। মিয়াদ সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার বালিশ্রী গ্রামের আবুল মিয়ার ছেলে এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় আহত হন আরো দুই জন।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর