বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সাবলিড



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩ ডিসেম্বর ২০২০, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ




মহাশূন্যে মুলা চাষে সফলতা

মহাশূন্যে এবার মুলা চাষে সফল হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মহাশূন্যে পৃথিবীকে ঘিরে ঘুরতে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের (আইএসএস) কঠিন পরিবেশে তারা মুলা চাষে এই সফলতা পেয়েছে।

বলা হচ্ছে, পৃথিবী থেকে চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের বসতি স্থাপনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলকভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় মহাশূন্যে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন মহাকাশ মিশনে পরিবার পরিজনদের ছেড়ে মাসের পর মাস কাটাতে হয় নভোচারীদের। সেখানে তারা যাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পান তার জন্যও মহাশূন্যে চাষবাসের চেষ্টা চলছিল বহুদিন ধরেই। অবশেষে মুলা চাষের মাধ্যমে তাতে সাফল্য এলো।

সম্প্রতি আইএসএসের কলম্বাস ল্যাবরেটরি মডিউলের প্লান্ট হ্যাবিটাট-২-তে মুলার বীজ থেকে গাছগজিয়ে ওঠার ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। ছবিতে একটি চৌকো আকারের একটি বাক্সে নানা ধরনের তারের মাঝখানে ২০টি সবুজ পাতা সংবলিত চারাগাছ দেখা গিয়েছে।কিন্তু পৃথিবীতে এত রকমের ফসল থাকতে কেন মুলাকেই বেছে নেওয়া হলো, তার পক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, মুলা চাষ করতে খুব বেশি সময় লাগে না। আর মুলা কাঁচাই চিবিয়ে খাওয়া যায় আবার এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই মহাশূন্যে মুলা চাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর কিছু দিন পরেই মাটি খুঁড়ে মুলা তোলা হবে। শুধু তা-ই নয়, মহাশূন্যে উৎপাদিত এই মুলার নমুনা স্বাদ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে পৃথিবীতেও।

তবে মহাকাশে মুলা চাষ মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায় শিকড় মাটিতে প্রবেশ করা ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জের। তাই প্রথমে মাটির বেড তৈরি করে তাতে বীজ পুঁতে দেওয়া হয়। তা থেকে চারা বেড়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে সমস্ত গাছ সমান পানি এবং সারও পায়।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নীল এবং লাল আলোতেই গাছ সবচেয়ে ভালো সাড়া দেয়। সেই মতো ওই বাক্সের মধ্যে এলইডি আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ১৮০-এর বেশি সেন্সর বসানো রয়েছে। বর্তমানে ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গাছের বৃদ্ধিতে নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রয়োজন বুঝে পানি, সার এবং তাপমাত্রার রদবদলও তাদের নজরদারিতেই হয়। খবর আনন্দবাজারের।

 

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর