আইন-আদালত, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২ জুলাই ২০২০, ৯:৪৭ অপরাহ্ণ




মহামারির মধ্যেই রেমিটেন্স সংগ্রহে রেকর্ড

চলতি বছরের জুন মাসে ১৮৩ কোটি ২৬ লাখ ডলারের রেকর্ড রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এত রেমিটেন্স আসেনি। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার রেমিটেন্স এসেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়িয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আরো একটি রেকর্ড।
এর আগে এক মাসে ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছিল গত বছরের জুন মাসে রোজার ঈদকে সামনে রেখে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৪৯ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ( প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ধরে) এক লাখ ৫৪ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। এর আগে কোনো এক অর্থবছরে এতো অর্থ দেশে আসেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ১৮৩ কোটি ২৫ লাখ ডলারের রেমিটেন্স এসেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার বেশি। গত বছর জুনে রেমিটেন্স এসেছিল ১৩৬ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

জানা গেছে, গেল অর্থবছরে রেমিটেন্সের উপর ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এর পর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস রেমিটেন্সের প্রভাব কমে যায়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ঈদের মাস মে তে আবাও রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে য়ায়। যার ধারাবাহিকতায় রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স পেল বাংলাদেশ। করোনায় বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিস্থিতি অবনতি না হলে রেমিটেন্স আরো বেশি হতো মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চলতি অর্থবছরের মত রেমিটেন্স বাড়াতে চলতি অর্থবছরও এ খাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিতকরণ, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং ওই বাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৪টি দেশে এক কোটি ২০ লাখের অধিক অভিবাসী কর্মী কর্মরত। গত দশ বছরে পেশাজীবী, দক্ষ, আধাদক্ষ ও স্বল্প দক্ষ ক্যাটাগরিতে মোট ৬৬ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে, যা এ পর্যন্ত মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৬০ শতাংশ। তার মধ্যে ২০১৯ সালে ৭ লাখের বেশি মানুষের বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিটেন্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছে। তারও আগে বিগত চার বছরের মধ্যে দেশে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স এসেছিল। সে সময় রেমিটেন্স আসে এক হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার। এর পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ১১ লাখ মার্কিন ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর পরিমাণ ছিল এক হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ মার্কিন ডলার। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছিল প্রবাসীরা। যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর