আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

১২ জানুয়ারি ২০১৮, ৪:০৬ অপরাহ্ণ




ভারতের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে চার বিচারপতির ‘বিদ্রোহ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কর্তৃত্বকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের চারজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। এ বিষয়ে একাধিকবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বললেও কোনো কাজ হয়নি বলে দাবি করেছেন তারা।

শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই এই সংবাদ সম্মেলন করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারক। তারা হলেন- জে চেলামেশ্বর, রঞ্জন গগৈ, মদন লোকুর ও কুরিয়েন জোসেফ। খবর বিবিসি ও হিন্দুস্তান টাইমস

আদালতের নিয়ম-কানুন মানা না হলে ভারতে গণতন্ত্র টিকবে না বলেও সংবাদ সম্মেলনে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই বিচারপতিরা।

বিচারপতি চেলামেশ্বর ছাড়া অপর তিনজন হলেন-বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি মদন লকুর ও বিচারপতি কুরিয়ান জোসেফ।

ভারতীয় বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি। এতে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন না। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশে চার বিচারপতির সংবাদ সম্মেলনের ঘটনাও নজিরবিহীন। অতীতে কখনোই বিচারপতিরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি যাতে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনায় তাদের নিরপেক্ষতা কোনভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়।

এদিকে, ভারতের বিচার বিভাগকে ঘিরে তৈরি এই অভূতপূর্ব সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির আইনমন্ত্রী রবি শংকর প্রসাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই চার ক্ষুব্ধ বিচারপতি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি চিঠিও বিলি করেছেন যেটি তারা এর আগে প্রধান বিচারপতিকে পাঠিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে বেশ ক’টি বিচারিক নির্দেশের ব্যাপারে তারা অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন। তারা আরও বলেছিলেন, যেসব মামলার রায় ভারতের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সুদুরপ্রসারি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হয়, প্রধান বিচারপতি সেই সব মামলা বেছে বেছে তার পছন্দসই কিছু বেঞ্চে পাঠান। এর ফলে দেশে বিচার বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হবে।

প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর কাছে এসব বিষয়ে বারবার উদ্বেগ জানানোর পরও তিনি কর্ণপাত করেননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন চার বিচারপতি। তারা বলেন, এরপর জাতির সামনে হাজির হওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিল না। তবে কোন কোন মামলা প্রধান বিচারপতি তার পছন্দসই বেঞ্চে পাঠিয়েছেন সেটি তারা উল্লেখ করেননি।

তবে ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক জল্পনা রয়েছে যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির দুর্নীতির বিষয়টি এর একটি। গত বছরের অাগস্টের ওই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের ভেতর চলতে থাকা এই টানাপড়েন প্রকাশ্যে নিয়ে এলো।

প্র.প/আ-প্র.প

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর