সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২২ মার্চ ২০১৮, ১২:০০ অপরাহ্ণ




বাড়ির পথে কাকন বিবির মরদেহ, বিকাল ৪টায় জানাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মুক্তিযোদ্ধা নূরজাহান কাকন বিবির মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের জিরারগাঁও গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বিকাল ৪টায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স কাকন বিবির মরদেহ নিয়ে দোয়ারাবাজারের পথে যাত্রা শুরু করে।

এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা তাকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

কাকন বিবির মেয়ের জামাই আব্দুল মতিন দেশদর্পণকে বলেন, মরদেহ দোয়ারাবাজারে পৌঁছানোর পর সর্বস্তরের মানুষ তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। এর পর বিকাল ৪টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতবর্ষী কাকন বিবি মারা যান।

গত সোমবার শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এর আগে গত বছর জুলাইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েক দিন হাসপাতালে ছিলেন।

কাকন বিবির স্বামী সাঈদ আলীও প্রয়াত। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারবাজার থানার জিরারগাঁও গ্রামে।

১৯৭১ সালে তিন দিন বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান কাকন বিবি। জুনে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে ধরা পড়েন তিনি। বাঙ্কারে আটকে দিনের পর দিন তাকে নির্যাতন করে পাকিস্তানি সেনারা।
ছাড়া পেয়ে মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলীর কাছে অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন কাকন বিবি। রহমত আলীর দলে সদস্য হয়ে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন তিনি। একইসঙ্গে চালিয়ে যান গুপ্তচরের কাজ।

১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে টেংরাটিলার সম্মুখ যুদ্ধে কয়েকটি গুলি তার শরীরে বিদ্ধ হয়। উরুতে কয়েকটি গুলির দাগ এখনও আছে।

টেংরাটিলা যুদ্ধের পর আমবাড়ি, বাংলাবাজার, টেবলাই, বালিউরা, মহব্বতপুর, বেতুরা, দূরবীণটিলা, আধারটিলাসহ প্রায় নয়টি সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন কাকন বিবি।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৬ সালে তাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর