জাতীয়



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৪ নভেম্বর ২০১৭, ২:৪৬ অপরাহ্ণ




বাউল বাড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বারী সিদ্দিকী

দেশদর্পণ ডেস্ক :: তাঁর দরদী গলার গানে মন্ত্রমুগ্ধ বাংলা গানের স্রোতা মাত্র। প্রবাসে দীর্ঘদিন থাকলেও সেই ভালোলাগায় কখনও ভাটা পড়েনি। ‘শুয়াচান পাখি আমার’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’সহ তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান ঘুরে ফিরে গানপাগলদের হৃদ মাজারে।  গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত দুটোর দিকে ৬৩ বছর বয়সে মারা যান। আজ শুক্রবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেষবারের মতো জানাজা শেষে রাত পৌনে ৭টার দিকে দাফন সম্পন্ন হয়।

বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী বলেন, “বাবার মরদেহ দাফন নেত্রকোনা জেলা সদরের চল্লিশা বাজারের কার্লি গ্রামে নিজস্ব বাউলবাড়িতে দাফন করা হয়েছে। বাবা জীবদ্দশায় বলেছিলেন, তাঁর মরদেহ যেন বাউলবাড়িতে দাফন করা হয়। তাঁর ইচ্ছে অনুযায়ী সেখানেই আজ বাদ আসর দাফন করা হয়েছে।”

নেত্রকোনায় নেওয়ার আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনে বারী সিদ্দিকীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে সাড়ে ৪টায় নেত্রকোণার সাতপাই এলাকার সরকারি কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর গত ১৭ নভেম্বর থেকে তিনি ভর্তি ছিলেন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় এতো দিন তাঁকে রাখা হয় লাইফ সাপোর্টে। চিকিৎসকদের মতে, বারী সিদ্দিকীর দুটি কিডনিই অকার্যকর ছিলো। এছাড়াও, ছিলো বহুমূত্র রোগ। বারী সিদ্দিকীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “গত দুই বছর ধরে এই শিল্পী কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন। গত বছর থেকে সপ্তাহে তিনদিন তাঁর কিডনির ডায়ালাইসিস করা হতো।”

প্রসঙ্গত, ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় এক সংগীত-পছন্দ পরিবারে জন্ম বারী সিদ্দিকীর। ছোটবেলায় তিনি সংগীত-শিক্ষা লাভ করেন উস্তাদ গোপাল দত্ত, উস্তাদ আমিনুর রহমান, ববির খান এবং পান্নালাল ঘোষের কাছ থেকে। এরপর, বারীর প্রবল আগ্রহ জন্মে বাঁশির প্রতি। ভারতে গিয়ে ধ্রুপদী বংশীবাদনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন বিশিষ্ট শিল্পী ভিজি করনাদের কাছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর