সোশ্যাল মিডিয়া



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০১৮, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ




বাংলাদেশের পতাকার মতো বিউটি, শেয়ালদের উত্থানের বীভৎস প্রতীক

ফারুক ওয়াসিফ :: দেশজুড়ে শেয়ালদের উত্থানের বীভৎস প্রতীক হয়ে থাকবে বাংলাদেশের পতাকার মতো বিউটি আক্তারের লাশের ছবি। ছোটো বেলায় দুধের শিশুদের শেয়ালে টেনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা শুনতাম। বিলের ধারে, নদীর পাড়ে বা সবুজ ক্ষেতে শিশুর আধখাওয়া দেহ পড়ে থাকতে দেখা যেত।

শেয়ালের পাল বিউটিকে আগেও একবার পেয়েছিল। রক্ত খেয়ে তছনছ দেহটা ফেরত দিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই করুণা নিতে পারেনি মেয়েটির বাবা। তিনি শেয়ালদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন। কেননা আইন প্রতিশ্রুতি দেয় বিচারের। কেননা সমাজের সচেতনরাও বলেন, মেয়ে তুমি চিৎকার করো, প্রতিবাদ করো, গুটিয়ে যেও না।

বিউটি আক্তার ও তার বাবা-মায়ের বোধহয় বিশ্বাস ছিল আইনের ওপর, প্রশাসন ও পুলিশের ওপর, গণমাধ্যমের ওপর, নাগরিক সমাজের ওপর। কিন্তু শেয়ালদের দুনিয়ায় শেয়ালরাই রাজা। শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ নিরাপত্তা দেয়নি। তারা কি জানতো না, ধর্ষণের ঘটনার একমাত্র সাক্ষি ধর্ষিতার জীবন মামলার পরে আরো ঝুঁকিতে পড়ে? তারা কি জানতো না, মেয়েটিকে গায়েব করে দিলেই ধর্ষক ও তার সঙ্গী-সাথী-পরিবার-দল সবাই নিরাপদ হয়ে যায়? জানতো না, তনু বা বিউটিরা মরে যাওয়ার অনেক দিন পর পরিবারটি ছাড়া বাকি সবাই তাদের কথা ভুলে যায়?

বাবা ভেবেছিেলন, মেয়েটাকে নানীবাড়িতে লুকিয়ে রাখি। কিন্তু শেয়ালদের নেটওয়ার্ক অনেক লম্বা। গন্ধ শুঁকে শুঁকে তারা বিউটির নানাবাড়ি চিনে আসে। তারপর ঝোপের মধ্যে অপেক্ষায় থাকে। তারা জানে, গরিব ঘরের মেয়ে বিউটির নানীও গরিব। এবং দেয়াল-পাহাড়াহীন বাড়ির মেয়েটিকে রাতে প্রকৃতি ডাকবেই, ঘরের বাইরে তাকে পাওয়া যাবেই। গরিব–মধ্যবিত্ত মানুষের মেয়েদের এতসব দুর্বলতার কথা সব শেয়ালেরাই জানে। জানে যে, অনিরাপদ দুনিয়ায় তাদের বের হতে হবেই। বোরখা থেকে লোহার পোশাক, সব ছিঁড়তে জানে দাঁতাল শেয়ালেরা।

পরদিন জনতা বাংলাদেশের আশ্চর্য এক পতাকার দেখা পায়। সবুজ জমিনে লাল জামা পরে রক্তে লাল মরণঘুমে শুয়ে আছে বিউটিফুল বাংলাদেশের বিউটি আক্তার। সেই দৃশ্য বাংলাদেশের দুঃখী পতাকার মতো মনে হয়। আর বাংলাদেশকে মনে হয় শেয়াল–হায়েনাদের বানানো মানুষের খোঁয়াড়। এখানে আমরা আর কোথায় লুকাব? খাঁচার আরো ভেতরে গিয়ে বসব? মিথ্যা মিথ্যা ভাবব যে, অনেক শিকারের ভীড়ে আমাকে ওরা দেখতে পাবে না?

– লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর