সোশ্যাল মিডিয়া



দেশদর্পণ ডেস্ক

৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ৩:২২ পূর্বাহ্ণ




বলতে হলে সূবর্ণাকেই বলবো

আব্দুল করিম কিম :: আমাদের টিভি দেখা কৈশোরে সুবর্ণা মোস্তফা ছিলেন অগ্রজদের স্বপ্নের নায়িকা। যেহেতু ইঁচড়ে পাকা ছিলাম তাই সূবর্ণা আমারও প্রিয় নায়িকা ছিলেন । স্বপ্ন দেখেছি, সংসপ্তক নাটকে সমবয়সী ‘মালু’ রাবু’দির চুলের গন্ধ শুঁকেছিল । হিংসা হয়েছিল মালুকে । ঐ রাতেই স্বপ্নে দেখেছিলাম সূবর্ণাকে । আমিও তাঁর চুলে নাক ডুবিয়ে বসেছিলাম । এই স্বপ্নের গল্প সবাইকে বলা যায় না । বলতে হলে সূবর্ণাকেই বলবো । তাই বলাও হয়নি এতকাল। আজ বলেই ফেললাম ।

সুবর্ণা মোস্তফার সাথে লেখক

বন্ধু ইকরামুল কবির সুমন-এর সিলনেট ক্যাফে ও বিলিয়ার্ড জোনে আজ সন্ধ্যায় “গহীন বালুচর“ ছবির পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ, সুবর্ণা মোস্তফা ও ছবির নায়িকা নীলাঞ্জনা নীলা’র উপস্থিতিতে সুধী সমাবেশ ছিল । সদ্য ভূমিষ্ট ‘সিলেট চলচিত্র সংসদ’ এর পক্ষ থেকে এনামুল মুনির ভাই গতকালই সুধী সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। সরকারি অনুদানে নির্মিত “গহীন বালুচর“ ছবি নিয়ে বেশ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে । চরের বিরোধ আর ভালোবাসা নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ‘গহীন বালুচর’। গহীন বালুচর বদরুল আনাম সৌদ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র। ২০১৭ সালের ৯ জুলাই কোনো কাটছাঁট ছাড়াই সেন্সর বোডের্র ছাড়পত্র পায় ‘গহীন বালুচর’। গেলো বছরের ২৯ ডিসেম্বর দেশের ২৬টি প্রেক্ষাগৃহে চলচিত্রটি মুক্তি পায় । কিন্তু সিলেটের কোন প্রেক্ষাগৃহে ছবিটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা হয়নি । ছবির নায়িকা নিলাঞ্জনা নীলা সিলেটের মেয়ে । লাক্স ফটোসুন্দরী নীলার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার তাজপুরে । আমাদের মেয়ে নায়িকা; কিন্তু সিলেটের মানুষ এ ছবি দেখবে না তা কিভাবে হয় ? তাই আগামীকাল শুক্রবার থেকে দুদিনব্যাপি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে সিলেটে। নগরের রিকাবী বাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়মে প্রতিদিন বিকেল ৩টা, সন্ধ্যা ৬ টা ও রাত ৮:৪৫ মি: ছবিটি প্রদর্শিত হবে। সুধী সমাবেশে ছবির কলাকুশলী ও সুধীজনেরা প্রত্যাশা করেন শুক্র ও শনিবারের প্রদর্শনীতে সিলেটের দর্শকেরা ভিড় জমাবেন । টিকেট মুল্য ১০০ টাকা ।

সিনেমার কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য, গান লিখেছেন পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ । আমার বন্ধু সুমন ও সাজু খাদেমের তিনি কাছের বন্ধু । সে হিসাবে সৌদ আমার তস্য বন্ধু । সৌদের স্ত্রী সূবর্ণা মুস্তাফা । সমবয়সী সৌদ সূবর্ণার পাশে ।
সুধী সমাবেশে বক্তব্য চলছিল গুরুগম্ভীর ভাবধারায় । আমাকে সুযোগ দিতেই কৈশোরের সেই গোপন প্রেম ফাঁস করে দেই । বলি, সেই সময়ে যারা সূবর্ণার প্রেমে পড়েননি তাঁরা পুরুষ নন । এ কথায় হল ভর্তি সবাই হেসে ওঠেন । বউকে নিয়ে যাওয়ার দাওয়াত ছিল । জানালাম, ইচ্ছে করে নেইনি । বৌয়ের সামনে বেফাঁস কথা বলা যাবে না বলে একা এসেছি ।
সামনে গুরুজনরা বসা । চুলে নাক ডুবানোর স্বপ্নের কথা বললেও সেই শখ পূরণের ইচ্ছা সংগত কারণেই উত্থাপন করিনি । করলেও সৌদ মাইন্ড করার মত নন । অমায়িক লোক । সহজেই আপন করে নিয়েছেন । ডিনারের ফাঁকে আড্ডায় বলে ফেললাম আপা, সৌদ যখন আমার সমবয়সী হয়েও সফল হয়েছে, লেগে থাকলে আমারও আশা ছিল । সূবর্ণা হাসলেন । সৌদ জানালেন, মাত্র তিনমাস লেগে ছিলেন । যাই হোক, বক্তব্য প্রদান শেষে বদরুল আনাম সৌদ’কে স্থানচ্যুত করে সূবর্ণার পাশে বসলাম । ছবি তুললেন অনেকেই । কারো ছবি এখনো পাইনি । কেবল ছোটবোন অদিতি দাস ম্যাসেঞ্জারে ছবি পাঠালো ।

 

লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর