জাতীয়, বাংলাদেশ



দেশদর্পণ ডেস্ক

৬ মার্চ ২০১৮, ১১:২৮ অপরাহ্ণ




প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ বৃহস্পতিবার শহীদ মিনারে নেওয়া হবে

দেশদর্পণ ডেস্ক :: স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।

৬ মার্চ (মঙ্গলবার) জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহাম্মদ সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আগামি ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আনা হবে।

এরপর ওইদিন বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে তার মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালের সিসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ল্যাবএইড হাসপাতালের হিমঘরে মুক্তিযোদ্ধা ও ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামি ৭ মার্চ (বুধবার) তার ছোট ছেলে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরবেন।

ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও লিভার, কিডনি ও থাইরয়েডের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৮ নভেম্বর বাথরুমে পড়ে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান তিনি। সেসময় তাকে হাসপাতালে নিয়ে কয়েক দফা চিকিৎসা দেওয়া হয়।

প্রিয়ভাষিণী বাংলাদেশের ভাস্কর্য চর্চায় ব্যতিক্রমী একজন শিল্পী ছিলেন। দামি জিনিসের পরিবর্তে চারপাশে পাওয়া ডাল, পাতা, কাঠের টুকরা, শেকড়, গাছের গুড়িকে তুলে এনে শিল্পে রূপ দিতেন। শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের জন্য ২০১০ সালে তাকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ প্রদান করা হয়।

একাত্তরের নির্মম ইতিহাসের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। ২০১৬ সালের ১১ আগস্ট তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় সরকার।