জাতীয়



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ




প্রিজনভ্যানে হামলা করে বিএনপির ২ কর্মী ‘ছিনতাই’

দেশদর্পণ ডেস্ক ::  রাজধানীর হাইকোর্টের সামনে বিএনপির মিছিল থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ও প্রিজনভ্যান ভেঙে আটক দুই কর্মীকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বিএনপির কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্যেই হাইকোর্টের সামনে কদম ফোয়ারা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার বকশী বাজারে বিশেষ আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরছিলেন। ওই ঘটনার পর পুলিশ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৬০ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপস্থিতিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে, প্রিজনভ্যান ভেঙে আটক দুইজনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে পুলিশ তার নিরাপত্তা বিবেচনায় কোনো অ্যাকশনে না গিয়ে ধৈর্যের পরিচয় দেয়। ওই ঘটনায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপ কমিশনারসহ ৮ জন আহত হন।

এর আগে ২০১৪ সালে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে দুর্ধর্ষ তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গেল বছরের মার্চে টঙ্গীতে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়।

তবে এবারই প্রথম খোদ ঢাকায় রাজনৈতিক দলের মিছিল থেকে প্রিজনভ্যানে হামলা চালিয়ে আটকদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর থেকেই বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গ সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী হাইকোর্ট মাজার, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও প্রেস ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে আদালতে হাজিরা দিয়ে চেয়ারপারসন ফিরছেন-এমন খবরে নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে আসেন। তখন ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশের একটি দল শিক্ষা চত্বরের সামনে থেকে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল মারতে থাকে। ওই সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রদল নেতা ওবায়দুল হক নাসির ও সোহাগ মজুমদার মিলন নামে দুইজনকে আটক করে। তাদেরকে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের গেটে রাখা প্রিজন ভ্যানে (ঢাকা মেট্রো-অ ১১-১৬২৫) রাখা হয়।

হাইকোর্ট মাজার গেটের সামনের ফুটপাতে একজন ভ্রাম্যমাণ দোকানি জানান, পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর বিএনপির লোকজন চারপাশ থেকে ইট ছুড়তে থাকে। এক পর্যায়ে পুলিশ সেখান থেকে সরে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর ওই পথে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরটি হাইকোর্ট মাজার পার হয়ে কদম ফোয়ারা গোলচত্বরে পৌঁছতেই প্রিজনভ্যানে আটক দুইজন চিৎকার দেন। ওই সময় ছাত্রদলের কর্মীরা প্রিজন ভ্যানটি ঘিরে ইট দিয়ে জানালা ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে লাঠি ও ইট দিয়ে পিটিয়ে ডান পাশের দরজা ভেঙে আলাদা করে ফেলা হয়।

ওই সময় প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তায় থাকা দুইজন পুলিশ সদস্য তাদের সরিয়ে দিতে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। তারা তাদের রাইফেল দিয়ে ঠেলে ছাত্রদল ও যুবদল কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় কর্মীরা দুইজনের রাইফেল কেড়ে নিয়ে রাস্তায় পিটিয়ে তা ভেঙে ফেলে। ওই সময় ইটপাটকেলে রমনা বিভাগের এডিসি আজিমের হাত ভেঙে যায়। একই সময়ে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়।

প্রিজন ভ্যান ভাঙার সময়ে পুলিশের আরও কয়েক সদস্য এগিয়ে গেলে অন্তত ৫০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর ইট ছুড়ে মারে। এক পর্যায়ে তাদের লাঠি কেড়ে নিয়ে উল্টো পুলিশকেই পেটাতে থাকে। ততক্ষণে নেতাকর্মীদের অপর দলটি প্রিজন ভ্যানের দরজা ভেঙে দুইজনকে ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের গাড়িবহর নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে ততক্ষণে উচ্চ আদালতের মূল ফটক পার হয়ে যায়।

পুলিশের রমনা জোনের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, যে কয়জন ভাংচুরকারী ছিল তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সহজেই অ্যাকশনে যেতে পারতো। তবে পুলিশ সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। দ্রুত ওই এলাকা থেকে নিরাপত্তা দিয়ে গাড়ি বহর ও মিছিল পার করে দিয়ে জন ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা ছিল।

ডিসি বলেন, পুলিশের ধৈর্যের সুযোগ নিয়ে মিছিল থেকে নাশকতা চালানো হয়েছে। বিনা উসকানিতে এমন নাশকতা করা হয়েছে। ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান বলেন, ওই ঘটনায় একাধিক মামলা হবে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে মামলার আসামি করা হবে।

প্র.প/আ-প্র.প

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর