মতামত



দেশদর্পণ ডেস্ক

১৯ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪০ অপরাহ্ণ




প্রণব মুখার্জির মূল্যায়নে ইন্দিরা গান্ধী

মানসিক দিক দিয়ে প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা গান্ধী ছিলেন কঠিন শিলা প্রচ্ছন্ন এক মানুষ। তবে রাষ্ট্রক্ষমতার লাগাম হাতে তুলে নেওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি কেউ ঘুণাক্ষরেও তার চরিত্রের এদিকটি আঁচ করতে পারেননি। লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রী পরিষদে অন্তর্ভুক্তির পর থেকেই এই পরিবর্তনের শুরু। প্রণব মুখার্জির সুযোগ হয়েছিল সেই পরিবর্তন কাছ থেকে দেখার। সেই বিষয়ের বয়ান ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় ১৯৭৬ সালের ১৯ নভেম্বর ছাপা হয়েছিল। প্রাসঙ্গিক এই লেখাটি পুনঃ মুদ্রিত হয়েছে।

প্রণব মুখোপাধ্যায়

শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর মানসিক গঠনে কোথায় যেন একটা কঠিন শিলা প্রচ্ছন্ন আছে। স্বীয় সংকল্পে অটল থাকাটাই বড় প্রমান। অথচ মজার কথা এই যে, দেশের রাষ্ট্রের পরিচালনার হালখানি তিনি হাতে তুলে নেওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের মানুষ তার চরিত্রের এই দিকটি সম্পর্কে ঘুণাক্ষরে ও টের পায়নি। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী তাকে মন্ত্রী পরিষদের অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই অবস্থান পরিবর্তন শুরু হলো এই সময়ে বিপদে আপদে তিনিই হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য মুশকিল আসান। ১৯৬৫ সালে যখন ভাষা নিয়ে তামিলনাড়ুতে দাঙ্গার আগুন জ্বলে উঠলো তখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পরিষদের মধ্যে একমাত্র শ্রীমতি গান্ধী ই আত্মবিশ্বাসে নির্ভর করে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাদের ত্রাস মুক্ত করতে সমর্থ হয়েছিলেন।১৯৬৬ সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হলেন তখন দেশের মানুষের প্রিয় নেতার কন্যার ওপরই কেন্দ্রীয় নেতা হিসাবে দেশের জনগণের ষোলো আনা আস্থার গৌরব অর্জন করে ফেলেছেন তিনি। জনসাধারণের একটা ধারণা হয়েছিল যে, মুক্তি সংগ্রামের অগ্নি পরীক্ষায় পোরখাওয়া কংগ্রেস নেত্রী বাহিনী, স্বাধীনতার পর প্রশাসনের কলাকৌশলে ক্রমেই প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন বলেই উত্তরোত্তর সার্থক তর উত্তরণের উদ্দেশ্যেই তাকে সামনে এগিয়ে দিয়েছেন। তিনিও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই নিজের স্বরূপ প্রকাশ করলেন। তার তরফ থেকে জনগণের ইচ্ছা পূরনের আগ্রহ ও অচিরেই এল- তার প্রমাণ মেলে১৯৬৬ সালে পাঞ্জাবের পরিস্থিতির মোকাবিলাতে আর১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তেলেঙ্গানা তে। পাঞ্জাব কে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা তে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে শ্রীমতি গান্ধী ওই রাজ্যের জনসাধারণের মনস্কামনা চরিতার্থ করতে কার্পণ্য করেননি।

কিন্তু শীর্ষতম জাতীয় নেতা তখনও তার বাকি ছিল। দলের কোন নেতা নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে একটা অলীক ধারণা পোষণ করতেন, আসলে নিজের যা মূল্য তার চেয়ে নিজেকে ঢের বেশি মূল্যবান ভাবতেন। শ্রীএস কে পাতিলের কথাই ধরা যাক, ১৯৬৭ সালের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগেই তিনি ভাবী প্রধানমন্ত্রী রুপে নিজের দাবি জাহির করে বসলেন।

নির্বাচন এল। এই সময়ে কংগ্রেস দলকে যেভাবে ঢেলে সাজানো হল তাকে ঐতিহাসিক পরিবর্তন ছাড়া আর কোনো আখ্যা দেওয়া যায় না– এই গালাপালিশ একাধারে কংগ্রেস দলের এবং সারা দেশ জুড়েই হল। ” প্রভুত্ব বাদ” যে দলের শক্তির মূলেই ঘুণ ধরিয়ে দিয়েছে সেটা সেবারই প্রথম ধরা পড়ল । জাতীয় সুনাম যে একেবারে গুঁড়িয়ে ধুলো হয়ে গিয়েছিল তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ মেলে স্বয়ং কংগ্রেস সভাপতি কামরাজের পরাজয়ে এবং সেটা ঘটল তাঁর নিজেরই নির্বাচনী এলাকায়, শ্রী এস কে পাতিল এবং শ্রী অতুল্য ঘোষও আপন রাজ্যে এর চেয়ে ভাল ফল দেখাতে পারলেন না।

পার্লামেন্টের লোয়ার হাউস অর্থাৎ লোকসভায় কংগ্রেস মোট ২৮৩ টি মাত্র আসন পেল। ১৯৬২ সালে লোকসভায় কংগ্রেস দল ৩৬১ টি আসনে জয়ী হয়েছিল। ১৯৬৭ সালেই কংগ্রেসকে প্রথম জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্ব ছাড়া নির্বাচনে লড়তে হল। সেই প্রথম কংগ্রেস দল যথার্থ জাতীয় নেতার অভাব গভীরভাবে অনুভব করল। এই অবস্থাতেও ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রতি তাঁর গভীর আস্থা এবং সাম্প্রদায়িকতার উপর চরম বিদ্বেষ প্রকটিত হল- তিনি ১৯৬৭ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে ডঃ জাকির হোসেনের নাম প্রস্তাব করলেন। কিন্তু জাকির হোসেন রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রীমতী গান্ধী দলের মধ্যে তাঁর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করলেন। কিন্তু সংসদীয় দলের নেতৃত্ব নিয়ে শ্রীমতী গান্ধীকে শ্রীমোরারজী দেশাই- এর সঙ্গে কঠিন অন্তর্দলীয় সংর্ঘষের সম্মুখিন হতে হলো। প্রধানমন্ত্রীর অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। হয় তাকে সম্মুখ সমরে নামতে হবে অন্যথায় দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বে পিছিয়ে পড়ে থাকতে হবে। ক্ষমতার আসনে থাকলে তার জয় পাওয়ার কোন কারণ নেই এটা স্পষ্টই অনুভব করলেন। কিন্তু কংগ্রেসকে ১৯৬৭ সালের নির্বাচনের ধ্বংসস্তূপ থেকে তুলতে হলে তাকে পাকা স্থপতি হতে হবে। শুধু তাই নয় নতুন মালমশলা জোগাড় করে গড়ে তোলার দায়িত্বও নিজেকে নিতে হবে। এদিকে পরবর্তীকালে ” সিন্ডিকেট” আখ্যাত জড়দগব নেতাদের কুটচক্র প্রগতির পথে উত্তুঙ্গ বাধা হয়ে রয়েছে সামনে। এই গোষ্ঠীতে ছিলেন শ্রী পাতিল, শ্রী সঞ্জীব রেড্ডি এবং তদানীন্তন কংগ্রেস সভাপতি শ্রীনিজলিঙ্গাপ্পা ।

এই সিন্ডিকেট কাদের প্রতিনিধি? ভারত সফরকালে প্রেসিডেন্ট নিয়েরেরে বলেছিলেন, এশিয়ার তুলনায় একদিক দিয়ে আফ্রিকা সুস্থ ও স্বচ্ছন্দ। আফ্রিকা থেকে উপনিবেশবাদ একবার সমূলে উৎপাটিত হওয়ার পর তার আর দ্বিতীয় কোন আশ্রয় মেলেনি, যেটা এশিয়াতে, বিশেষত ভারতে অর্থনৈতিক কায়েমী স্বার্থের সর্বেশ্বর দের মধ্যে বাসা বেধেছে। এই কায়েমী স্বার্থের মোকাবিলা মস্ত উপসর্গ। সিন্ডিকেট হচ্ছে এই কায়েমী স্বার্থেরই রাজনৈতিক হাতিয়ার। অতএব সিন্ডিকেটের সঙ্গে শ্রীমতি গান্ধীর এই সংগ্রাম বস্তুত স্থানীয় শিল্প, বাণিজ্য ও ভূমির কায়েমী স্বার্থের বিরুদ্ধে লড়াই। সেই সংগ্রামের কাহিনী সকলের জানা।

তাঁর ব্রত পালনের পথে পদক্ষেপের নির্দেশন দেশীয় রাজাদের ভাতার সুবিধা বিলোপ এর বিলটি রাজ্যসভায় একটুর জন্য অনুমোদন পেল না, এই সংকটের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়ার ঘোষণা করলেন। পার্লামেন্ট যখন অবসিত হল, তখনও তার মেয়াদ ফুরোতে এক বছরের চেয়ে কিছু বেশি বাকি ছিল। পরের নির্বাচনে স্পিকারের আসন ছাড়া পরিষদের মোট ৫২০টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৩৬১টি আসনে জয়ী হল, ১৯৬২ সালে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে শেষ যে নির্বাচন তাতেও এই একই সংখ্যাগরিষ্ঠতায় কংগ্রেস দল জয়ী হয়েছিল। কংগ্রেস (সং) মাত্র ১৬টি আসন কুড়িয়ে বাড়িয়ে পেল। কংগ্রেস (সং) দলের অবস্থা আরও সঙ্গীন দাঁড়াল, ইন্দিরা-বিরোধীদের মতলবে তাঁরা দক্ষিণপন্থী ও বামপন্থীদের একটা জোট বেঁধে এই জোড়াতালির নাম দিলেন মহাজোট (গ্র্যান্ড অ্যালায়েন্স)।

বাংলাদেশ পরিস্থিতির উদ্ভব দ্বিতীয় দফায় ছিন্নমূল জনস্রোতের ভারতে অনুপ্রবেশের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ সংঘর্ষ ভারতের সামনে বৃহত্তর সঙ্কটের আকার ধারণ করল। যুদ্ধে পাকিস্তানকে দুরন্ত ভাবে পরাজিত করার অনিবার্য ফলস্বরূপ শ্রীমতি গান্ধী এক অভূতপূর্ব গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত হলেন। তারই আশু পরিণতি দেখা গেল ১৯৭২ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে। কংগ্রেস ১৯৭২ সালের নির্বাচনে বৈপ্লবিক সাফল্য দেখাল। এই নির্বাচনগুলিতে কংগ্রেস দল ২৫২৯টি আসনে প্রর্থী দাঁড় করিয়েছিল, তার মধ্যে ১৯২৭টি আসনে বিজয়ী হল। শতকরা ভিত্তিক হিসাবে মোট ভোটের ৭০.৭৭টিই কংগ্রেসের স্বপক্ষে পড়েছিল।

মূল দলকে একতাবদ্ধ রাখা আর রাজনৈতিক বিরুদ্ধ দলগুলিকে অকর্মন্য করে রাখার মধ্যেই এক জন দলনেতা বা দলনেত্রীর রাজনীতিজ্ঞতা আর রাজনৈতিক শক্তির পরিচয়ের শেষ কথা নয়। যথার্থ শক্তিসম্পন্ন নেতৃত্ব এক সময়ে দলের গণ্ডির ঊর্ধ্বে উঠে জাতির উজ্জ্বল ও স্বার্থকতম লক্ষ্যে উত্তীর্ণ হয়। এটা যখন ঘটে, বিরোধী দলগুলির অনুরূপ মনোভাবাপন্ন মানুষেরা শাসকদলের মত, উদ্দেশ্য, এমনকী আদর্শের মধ্যেও অনুরূপতা নিজের মতের মধ্যে আবিষ্কার করেন। আর্থনীতিক এবং সামাজিক অবস্থা তাঁদের শাসক দলের সঙ্গে সহযোগিতায় নামতে আগ্রহী করে তোলে, কতকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা এই পথ বেছে নেন। অন্যথায় তাদের জনসাধারণ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার মর্মান্তিক পরিণতি প্রতীক্ষা করছে। কিন্তু অসন্তুষ্ট দল বা গোষ্ঠীরএতে তিক্ততা বাড়ে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে।

শ্রীমতি গান্ধীর ওপর দেশের মানুষের আস্থা যত বাড়তে লাগলো, জনগণের তরফ থেকে তাঁকে সমর্থনের উৎসাহ দিকে দিকে ততই প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো , কিছু কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা ততই বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়লেন। তারা জানেন যে, গণতান্ত্রিক নির্বাচন পদ্ধতি বা সংসদীয় হাতিয়ার দিয়ে শ্রীমতি গান্ধীকে শক্তির আসন থেকে নামানো সম্ভব হবে না। তাই তারা ক্ষোভে অন্ধ হয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর একেবারে আস্থা হারিয়ে সংবিধান বিরুদ্ধ ফ্যাসিস্ট কায়দায় কার্যকলাপের আশ্রয় নিলেন। দক্ষিণপন্থী দলগুলির অনুসৃত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলার জন্য আভ্যন্তরীন জরুরী অবস্থা ঘোষণার চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত সময়োচিত হয়েছে । শুধু যে ফ্যাসিস্ট উপদ্রব প্রশমনের দিক থেকেই এ ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ তাই নয় আর্থনীতিক ক্ষেত্রে এর সক্রিয় ভূমিকা বোধ করি আরোও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাপারটা ষোল আনা নতুনও নয়।

২০ দফা আর্থনীতিক কর্মসূচির বহুমুখী প্রয়োগের ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব প্রাণস্পন্দনের জেগেছে। এ বছরের এপ্রিল- জুলাইতে শিল্পসংক্রান্ত উৎপাদন বৃদ্ধির রেকর্ড স্থাপিত হয়েছে, শতকরা ১৪.৩ ভাগ হারে এই বৃদ্ধি এই প্রথম। রপ্তানির হার শতকরা ৩২ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমদানির হার শতকরা ১১ ভাগ নেমে গিয়েছে। বহু বছরের মধ্যে এই প্রথম ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ৮২ কোটি টাকা জমার খাতে হাতে আছে। গত এক বছর ধরে বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে ভারতের রিজার্ভ তিনগুণ বৃদ্ধি বজায় আছে- এটাও নতুন রেকর্ড। চোরাচালানকারী আর বৈদেশিক মুদ্রার চোরাকারবারীদের দমন করবার জন্য গোপন আর্থনীতিক চক্রান্তের জড়ও নির্মূল হয়েছে। খাদ্যশষ্যের ক্ষেত্রেও এমন বিপুল উত্পাদন ইতিপূর্বে কখনও হয়নি— এ বারের পরিমাণ হল ১১ কোটি ১৮ লক্ষ টন। আমরা এক কোটি ৭০ লক্ষ টন খাদ্যশষ্য মজুত করতে পেরেছি।

এই সুফলগুলিই মুদ্রাস্ফীতিকে দমন করতে সহায়তা করেছে, অথচ দুনিয়ার অন্যান্য উন্নতিশীল এবং উন্নত দেশগুলিতে এখনও এই মুদ্রাস্ফীতি আর্থনীতির কাঠামোর পরিপন্থী হয়ে রয়েছে।

শ্রীমতি গান্ধী, যিনি ২০ দফা কার্যসূচিকে সর্বতো ভাবে সার্থক করার জন্য একনিষ্ঠ ভাবে কাজ করছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার যদি ২০ দফা আর্থনীতিক কর্মসূচি রূপায়ণের দিকে সর্বপ্রকার প্রযন্তে প্রয়োগ করে কাজ না করতেন, তা হলে আমাদের আর্থনীতিক অবস্থা উন্নতির দিকে মোড় নেওয়া মোটেই সম্ভব হত না। বহু কষ্টার্জিত স্বাধীনতার সংহতিই আজকের ভারতের এই সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছে।

আমাদের জনসমাজের একটি অংশ এতকাল প্রায় সুপ্ত বা বিভ্রান্ত ছিল অথচ তাঁদের শক্তি অসামান্য- প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মনেও সাড়া জাগিয়েছেন, তাঁদেরও কর্মমুখর করে তুলেছেন। এঁরা হলেন, ভারতীয় যুবজন। আজ তাঁরা জাতীয় জীবনে নিজেদের সামিল করেছেন, তাঁরা পরিবার পরিকল্পনাকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন, সাক্ষরতার প্রসার ঘটাচ্ছেন এবং আগামী দিনের মানুষের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের পরিবর্তন সাধন করছেন।

তাঁর পিতা অনুজতর মানুষদের বরাবর এবং বারবারই একটা কথা বলতেন, “ভয়ঙ্কর ভাবে বাঁচো।” শ্রীমতি গান্ধী তখন সেই উত্তরসাধক তরুণ মানুষদেরই একজন ছিলেন। এই ভাবে বাঁচার সঙ্গে তিনি পিতার
আরও একটি পরম নীতিকে বাস্তবে রূপায়িত করেছেন, সেটি- “যারা ভাবনায় ও কাজে অকুতোভয়, সাফল্য তাদের আয়ত্বগত।” কিন্তু আসলে দেশের সেবায় আত্মোত্‌সর্গ এবং সমাজবাদই এ দেশের একমাত্র অনুসৃতব্য পথ- এই বিশ্বাসই পিতা ও কন্যাকে এক অভিন্ন সূত্রে গেঁথে রেখেছে।

এই পথই দেশকে শ্রী, সমৃদ্ধি ও অমেয় শক্তিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।