আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

৪ মার্চ ২০১৮, ৮:২০ অপরাহ্ণ




পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম হিন্দু নারী সিনেটর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম কোনো হিন্দু নারী সিনেট সদস্য নির্বাচিত হলেন। গতকাল শনিবার পাকিস্তান পিপলস পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি সিন্ধু প্রদেশে সিনেটের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হন। আজ রোববার পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডনের অনলাইন সংস্করণে এ খবর জানানো হয়।

কৃষ্ণা কুমারী নামের ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই হিন্দু নারী প্রদেশের নগরপার্কারের প্রত্যন্ত এলাকা ধানা গামের কোহলি সম্প্রদায়ের।

এক প্রতিক্রিয়ায় কৃষ্ণা কুমারী বলেন, ‘আমি অত্যন্ত আনন্দিত। সিনেটে পৌঁছানো আমার জন্য অচিন্তনীয় বিষয় ছিল।’ তিনি বলেন, নির্যাতনের শিকার মানুষের অধিকারের লড়াই তিনি চালিয়ে যাবেন। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে তিনি কাজ করবেন।

৩৯ বছর বয়সী কৃষ্ণাকে বাবা-মা আদর করে ‘কিশু বাই’ বলে ডাকেন। কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে তাঁকে ছেলেবেলা পার করতে হয়েছে। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তাঁকে উমেরকট জেলার কুনরিতে এক ভূস্বামীর জমিতে জোরপূর্বক শ্রম দিতে হতো। তিন বছর তাঁরা সেখানে জেলখানার মতো থাকতে বাধ্য হয়েছেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালানোর পর তাঁরা মুক্ত হন। উমেরকটের তালহি গ্রামে তিনি প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হন। এরপর তিনি মিরপুরখাস জেলার তানদো কলাচি এলাকায় পড়াশোনা করেন। অনেক সংকটের মধ্যে বাবা-মা কৃষ্ণা ও তাঁর ভাইয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নেন।
কৃষ্ণা তাঁর এই সফলতা মা-বাবাকে উৎসর্গ করে জানান, শিক্ষা গ্রহণে বাবা-মাই তাঁকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। তাঁদের কারণে তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

১৯৯৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ১৬ বছর বয়সে তিনি সিন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র লাল চাঁদকে বিয়ে করেন। বিয়ের পরও তিনি পড়ালেখা চালিয়ে যান। সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে এম এ করেন। ২০০৫ সালে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীর যোদ্ধা রুপলো কোহলির পরিবারের সদস্য কৃষ্ণার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন পাকিস্তান পিপলস পার্টির থার অঞ্চলের এমপি মহেশ কুমার মালানি। নির্বাচনের আগে ডনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই আশাবাদের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। রুপলো কোহলি ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশ বাহিনীর ওপর আক্রমণের কারণে নগরপার্কারে গ্রেপ্তার হন এবং ১৮৫৮ সালের ২২ আগস্ট তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

একসময় শিশু অবস্থায় বাবা-মায়ের সঙ্গে একজন ধনী ভূস্বামীর জমিতে শ্রম দিতে বাধ্য হয়েছিলেন কৃষ্ণা। তেমন সম্পদশালী জমির মালিকদের সঙ্গে এবার এক কাতারে দাঁড়িয়ে সিনেটর হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।

প্র.প/আ-প্র.প

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর