আইন-আদালত



দেশদর্পণ ডেস্ক

১ মার্চ ২০১৮, ১:৫২ অপরাহ্ণ




নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদ বহাল

দেশদর্পণ ডেস্ক :: স্বপদেই বহাল থাকছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী। সাজা কম খেটে বের হওয়ার কারণে তার পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর আজ বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) হাইকোর্টের একক বেঞ্চ রায় ঘোষণা করায় এ বিষয়ে আর কোনও সংশয় থাকলো না। বহুল আলোচিত এ মামলার রিটটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। এর ফলে নিজাম উদ্দিন হাজারী তার স্বপদে (সংসদ সদস্য) বহাল থাকবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে নিজাম হাজারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও নুরুল ইসলাম সুজন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন কামরুল হক সিদ্দিকী ও সত্যরঞ্জন মন্ডল। এ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া দ্বিধা-বিভক্ত রায়ের পর একাধিক বিচারপতির একক বেঞ্চ বিব্রতবোধ করায় শেষ পর্যন্ত বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকীর একক বেঞ্চে মামলাটির সুরাহা হলো।

২০১৪ সালের ১০ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাজা কম খেটেই বেরিয়ে যান সাংসদ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০০ সালের ১৬ আগস্ট অস্ত্র আইনের এক মামলায় নিজাম হাজারীর ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু দুই বছর ১০ মাস কম সাজা খেটে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি’।

পরে এই প্রতিবেদন যুক্ত করে নিজাম হাজারীর সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন সাখাওয়াত হোসেন ভূঁইয়া।

রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১৪ সালের ৮ জুন রুল জারি করেন হাইকোর্ট। ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট এ রুলের শুনানি শেষে ১৭ আগস্ট সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদ থাকবে কি-না, সে বিষয়ে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

তবে বিচারিক আদালতের একটি নথি না আসায় রায়ের দিন পিছিয়ে ২৩ আগস্ট ধার্য করা হয়। পরে কয়েক দফা পিছিয়ে ওই বছরের ৬ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুসারে, কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার এবং সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না, যদি তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে।

সে হিসেবে নিজাম হাজারী ২০১৫ সালের আগে সংসদ সদস্য হতে পারেন না। অথচ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সংসদ সদস্য হন তিনি।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর নিজাম হাজারীর পদে থাকার বৈধতা নিয়ে জারি করা রুলের বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. এমদাদুল হক তার রায়ে রুল মঞ্জুর করে নিজাম হাজারীর পদে থাকাকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান এ বিষয়ে করা রিট ও রুল খারিজ করে দেন। অর্থাৎ তার রায়ে নিজাম হাজারীর এমপি পদ বৈধ।

এরপর আইন অনুসারে রিট আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে তিনি একক বেঞ্চের কাছে পাঠান।

গত ১৫ জানুয়ারি বিচারপতি ফরিদ আহমেদের হাইকোর্টের একক বেঞ্চ এ মামলার শুনানি শুরু হলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। ফলে তদানীন্তন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে মামলাটি পাঠান। গত ৩০ জানুয়ারি বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ সংক্রান্ত রিটে নিজাম হাজারীর আইনজীবী শুনানি করেন। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এই বিচারপতিও বিব্রতবোধ করেন।

তখন রিটের নথি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানোর পর তিনি বিচারপতি মো.আবু জাফর সিদ্দিকীর বেঞ্চে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠিয়ে দেন।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা নিয়ে রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। এরপর এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজ বৃহস্পতিবার (১ মার্চ) দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট।

বেআ/আবে

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর