লিড নিউজ, সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৬ অক্টোবর ২০১৭, ১:৪৭ অপরাহ্ণ




দেড় দশকের প্রতীক্ষার পর তামাবিল স্থলবন্দরের উদ্বোধন আগামীকাল

গোয়াইনঘাট থেকে প্রতিনিধি :: দীর্ঘ পনের বছরের প্রতীক্ষার পর আগামীকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হচ্ছে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দরের। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত আজ বেলা ১১টায় স্থলবন্দরের আনুষ্ঠানিক এর উদ্বোধন করবেন।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে তামাবিলে স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান, নৌ পরিবহন সচিব মো. আব্দুস সামাদ।

জানা গেছে, ২০০২ সালে তামাবিল শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করার ঘোষণা দেয় সরকার। এ ঘোষণার প্রায় ১৩ বছর পর ২০১৫ সাল থেকে স্থল বন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তখন আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু নির্মান কাজের ধীরগতির কারণে গত বছর তা চালু করা সম্ভব হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুল্ক স্টেশনকে বন্দরে উন্নীত করার কার্যক্রমের মধ্যে ২৩.৭২ একর ভূমি অধিগ্রহণ, এক লাখ নয় হাজার ৩৩০ ঘনমিটার ভূমি উন্নয়ন, দুই হাজার ৫০০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, আট হাজার ১৮০ বর্গমিটার অভ্যন্তরীন সড়ক নির্মাণ, ২৭ হাজার বর্গমিটার ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড নির্মাণ, ৭৪৪ বর্গমিটার ওয়্যারহাউস নির্মাণ, এক হাজার ৩৪৯ বর্গ মিটার অফিস, ডরমেটরি ও ব্যারাক ভবন নির্মাণ, দুই হাজার মিটার ড্রেন নির্মাণ, দুটি ওয়েটব্রিজ ও দুটি ১০০ মেট্রিকটন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ওয়েহিং স্কেল এবং পাঁচটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। এসব উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা।

তামাবিল দিয়ে মূলত কয়লা, চুনাপাথর, পাথর ও ফল আমদানি করা হয়। পাশাপাশি প্রসাধন সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ইট রপ্তানি করা হয়।

এতদিন পর্যন্ত তামাবিলে কোন স্থাপনা না থাকায় আমদানিকারকরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভাড়া করা জায়গায় আমদানিকৃত মালামাল সংরক্ষণ ও লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করতেন বলে জানা আমদানিকারকরা। স্থল বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলে সিলেটের কাছাকাছি থাকা ভারতের সাত রাজ্যের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য আরো বাড়বে বলে তারা জানান।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (ট্রাফিক) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল এই স্থলবন্দর চালু হতে যাচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর