সিলেট প্রতিক্ষণ



দেশদর্পণ ডেস্ক

৩১ মার্চ ২০১৮, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ




দুই দফা কালবৈশাখী, বিপর্যস্ত সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট দুই দফা কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে সিলেট নগর ও এর আশপাশ এলাকায় ঘর-বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা, গাছপালা, ফসল বিনষ্ট হয়েছে। ঝড়ে দুই জন নিহত ও অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত এক যুবলীগ নেতাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। দুই দফা ঝড়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন ছিল পুরো নগরী।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটের দিকে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে, এসময় ৭৮ কিলোমিটার বেগে পশ্চিম দিক থেকে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। এর স্থায়ীত্ব ছিল দুই মিনিট। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রথম দফায় ১১০ কিলোমিটার গতিবেগে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, আগামী দুই-তিনদিন কালবৈশাখী ঝড় অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটের দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এসময় আকাশ ঘন অন্ধকারে ঢেকে যায়। প্রায় আধ ঘন্টা টানা ঝড়, দমকা হাওয়া ও শীলা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে নগর। এর মধ্যে অন্তত ৫ মিনিট তীব্র কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ে বিভিন্নস্থানে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড, গাছপালাসহ ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এসময় জনশূন্য হয়ে পড়ে পুরো নগর। ঝড় শুরুর আগেই বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে পুরো নগর। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট নগরে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। ঝড়ের সঙ্গে ছিলো প্রবল বৃষ্টিপাত। ঝড়ের শুরুতেই বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে নগরে। প্রচ- বেগের কালবৈশাখী ঝড়ের স্থায়ীত্ব ছিল প্রায় ২০ মিনিট। ঝড়ে নগরের বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড ও ব্যানার খুলে পড়ে। অনেক বস্তি এলাকায় ঘরের চাল উড়ে যায়। প্রচন্ড বাতাসে বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতি হয়, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবলের লাইন ছিড়ে পড়ে। সারারাত সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সকালের দিকে আস্তে আস্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়। এদিকে আকস্মিক শুরু হওয়া ঝড়ে বেকায়দায় পড়েন বাড়িমুখি মানুষ। অন্ধকারে রীতিমতো ভীতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঝড় থেমে যাওয়ার পর বৃষ্টি না থামায় দীর্ঘ সময় দোকানপাটের বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় পথচারীদের।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ (২) বিভাগের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ইকরাম হাসান চৌধুরী জানান, ঝড়ে অনেকস্থানে লাইন ছিঁড়ে পড়ে যায়। তবে ঝড় থামার পরপরই বিদ্যুৎ সরবারাহ স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে গুরুত্বর আহত হয়েছেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোসাদ্দেক হোসেন মুসা। জানা গেছে, রাত সাড়ে আটটার দিকে মুসা দক্ষিণ সুরমা থেকে কাজির বাজার সেতু হয়ে নগরের রিকাবীবাজার আসছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে সেতুর উপর থাকা একটি চটপটির গাড়ি তার মোটরসাইকেলের উপর এসে আছড়ে পড়ে। এসময় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরে ওয়েসিস হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকালে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি এম. রশীদ আহমদ।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর