খেলাধুলা, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ




ঢাকার জয় : অভিষেকেই বাজিমাত আলিসের

ক্রীড়া প্রতিবেদক :: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দূরের কথা বাংলাদেশের ক্রিকেটের কয়জন চেনেন ২২ বছরের আলিস আল ইসলামকে? সেই অচেনা আলিসই অভিষেকে গড়লেন অনন্য এক বিশ্ব রেকর্ড। টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক করে বনে গেলেন জিরো থেকে হিরো। আরো ভালো করে বললে ভিলেন থেকে হিরো।

আজই রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসের মধ্যেকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে বিপিএলে অভিষেক হলো আলিসের। কিন্তু অভিষেকেই ভিলেন বনে যাওয়ার পথটা পরিস্কার করে ফেলেছিলেন প্রায়। ব্যাট হাতে মাঠে নামার সুযোগই পাননি। ফিল্ডিংয়ে নামার পর ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তখনো তাকে বল হাতে দেননি। কিন্তু তার আগে ফিল্ডিংয়েই করে বসলেন দুদুটি অমার্জনীয় ভুল! পরপর দুই বলে দুবার ক্যাচ ফেললেন মোহাম্মদ মিঠুনের। পরে এই মিঠুনই রাইলি রোসোর সঙ্গে মিলে গড়লেন ১২১ রানের জুটি। তাতে অনেকটা সহজ হয়ে যায় রংপুরের জয়ের পথ। আলিসের আনারি হাতে ১৮ ও ১৯ রানে দাঁড়িয়ে দুবার জীবন পাওয়া মিঠুন শেষপর্যন্ত ৩৫ বলে খেলেন ৪৯ রানের ইনিংস।

ঢাকা ম্যাচটা হারলে ব্যর্থতার দায়টা পড়ত আলিসের ঘাড়েই। কিন্তু ভাগ্য তার জন্য অভিষেকটা রঙ্গিন করে রাখতে চেয়েছিল। তাই বল হাতে তিনি উল্টে দিলেন ম্যাচের ভাগ্য। দলের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক হয়ে উঠা রাইলি রোসোকে আউট করে নিজের প্রথম উইকেটটিই নেননি সঙ্গে ঢাকাকে ম্যাচে ফেরান। মাত্র ৪৪ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৩ রানের ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রোসো। এরপর ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারাকে ফেরালেন সাকিব। আলিস রূপকথার গল্প তখনো কল্পনার বাইরে। অবশেষে সেই গল্পের শুরুটা হলো ১৮তম ওভারের চতুর্থ বলে। দুবার যার ক্যাচ ছেড়েছেন, হ্যাটট্রিকপর্বের প্রথমেই সেই মিঠুনকে ফেরালেন। পরের দুই বলে ফেরালেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজাকে। অভিষেকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়। টি-টুয়েন্টিতে এর আগে বিশ্বের কেউই অভিষেকে হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।

আলিসের এই হ্যাটট্রিক জাদুর পরও অবশ্য জয় রংপুরের হাতের নাগালেই ছিল। শেষ দুই ওভারে মাশরাফির দলের দরকার ছিল ২২ রান। পরের ওভারে আন্দ্রে রাসেল তুলে নেন ২ উইকেট। ফেরান সোহাগ গাজী ও বেনি হাওয়েলকে। নাটকীয়তা হয়েছে শেষ ওভারেও। শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ১৪ রান। সাকিব বল তুলে দেন হ্যাটট্রিক নায়ক আলিসের হাতেই।

তার প্রথম দুই বলেই দুটি বাউন্ডারি মারেন শফিউল ইসলাম। সমীকরণ তখন রংপুরের জন্য আরও সহজ। ৪ বলে দরকার ৬ রান। শফিউল পরের বলে নিলেন ১ রান। ৩ বলে দরকার ৫। নাজমুল পরের বলে রানই নিতে পারলেন না। শেষ ২ বলে দরকার ৫। পঞ্চম বলে নাজমুল নিলেন ১। শেষ বলে দরকার ৪। কিন্তু শফিউল ১ রানের বেশি নিতে পারেননি। মানে ঢাকার ১৮৩ রানের জবাবে রংপুরের দৌড় থামে ১৮১ রানে। ঢাকার অবিশ্বাস্য জয়ের শেষটা আচড়ও তাই হ্যাটট্রিক নায়ক আলিসের হাতেই।

৪ ওভার বোলিং করে ২৬ রানে রেকর্ড গড়া হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট। দলকে নাটকীয় জয় এনে দেওয়ার ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও পেয়েছেন তিনিই।

আক্ষরিক অর্থেই আলিস জিরো থেকে হিরো।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর