আন্তর্জাতিক



দেশদর্পণ ডেস্ক

৭ মার্চ ২০১৮, ১২:২২ অপরাহ্ণ




ট্রাম্পের উপদেষ্টার পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের’ পরিচালক গ্যারি কন পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির বিরোধিতার জেরেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাকে। বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ানের ওপর শুল্ক ধার্য করার যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্প নিয়েছেন তার সঙ্গে একমত নন গ্যারি কন।

মুক্ত বাণিজ্যে বিশ্বাসী ও ওয়াল স্ট্রিটের ঘনিষ্ঠ ৫৭ বছর বয়সী কন, প্রভাবশালী গোল্ডম্যান স্যাক্স ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ট্রাম্পের নতুন ট্যাক্স নীতি বাস্তবায়নে তিনিই মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। পদত্যাগের বিষয়ে কন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যানে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারন, বিশেষ করে কর নীতি সংস্কারের মতো কাজ করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করেন। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চলে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পকে আগে থেকেই জানিয়ে রেখেছিলেন গ্যারি কন।

বিবিসির বিশ্লেষক অ্যান্থনি জারকার মনে করেন, এই পদত্যাগ খুব বেশি চমকে যাওয়ার মতো নয়। ডেমোক্র্যাট শিবিরের কন কাজ করছিলেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। বিশ্বায়নে আস্থা রাখা কন যখন দেখেছেন ট্রাম্প রক্ষণশীল অর্থনৈতিক ধারার দিকে ঝুঁকে পড়ছেন, তখন তার সরে যাওয়াটাই স্বভাবিক। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে একই কথা ধারণা দিয়েছেন; ইস্পাত ও এলুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপের বিরোধিতাই শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে গড়িয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের যে কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন তিনি জানিয়েছেন, শুল্কই একমাত্র বিরোধের বিষয় ছিল না। বরং আরও অনেক বিষয়েই কন একমত হতে পারছিলেন না।

গ্যারি কনের পদত্যাগের ঘোষণার পরে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে কনকে ‘বিরল প্রতিভা’ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন,‘ঐতিহাসিক কর নীতি বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারে তার ভূমিকা অসাধারণ। পরে তিনি টুইটারে লিখেছেন, অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পদে অন্য কাউকে শীঘ্রই নিয়োগ দেবেন তিনি। ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘অনেকেই নিয়োগ পেতে চায়। ভেবেচিন্তে বেছে নিতে হবে!’

উল্লেখ্য, ট্রাম্প কসমটায় আসার পর অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাই পদত্যাগ করেছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের যোগাযোগ পরিচালক হোপ হিকস পদত্যাগ করেছেন। ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণায় রাশিয়ার প্রভাব নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া ‘হোয়াইট হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির’ কাছে তার বক্তব্য পেশ করার পরের দিনই হোপ হিকস পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

কয়েক দিন আগেই মেক্সিকোতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত রবার্টা জ্যাকবসন পদত্যাগ করেছেন। তার আগে গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের টম শ্যাননসহ আরেকজন কূটনৈতিক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। জানুয়ারিতে পানামার রাষ্ট্রদূত পদত্যাগ করার কারণ হিসেব জানিয়েছেন,তার পক্ষে ট্রাম্পের অধীনে আর কাজ করা সম্ভব না।

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর