আন্তর্জাতিক, লিড নিউজ



দেশদর্পণ ডেস্ক

২৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ৯:৩১ অপরাহ্ণ




জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন পোপ ফ্রান্সিস

দেশদর্পণ ডেস্ক :: খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিনকে সামনে রেখে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। রবিবার ক্যাথলিকদের সর্বোচ্চ সংগঠন ভ্যাটিকানে বড়দিনের সন্ধ্যায় জড়ো হওয়া মানুষদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেন পোপ ফ্রান্সিস। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়েছে, পোপ ফ্রান্সিস জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন সিদ্ধান্তের প্রতি কড়া সমালোচনা করেন। একইসাথে এর মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের প্রতি আহবান জানান।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরই পোপ ফ্রান্সিস সমালোচনা করে ট্রাম্পকে জেরুজালেমের বিষয়ে আগের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এর আগে শনিবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি বিশ্বের মুসলিম ও খ্রিস্টানদের জন্য ‘অপমানজনক’ উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা।

পশ্চিমতীরের বেথেলহেমে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জেরুজালেমের গ্রিক অর্থডক্স আর্চবিশপ আতাল্লাহ হান্না বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান ও মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতিকে প্রত্যাখ্যান করছি। এই ঘোষণা আমাদের জনগণ ও আমাদের মুক্তি আন্দোলনের প্রতি অপমানজনক’।

হান্না আরও বলেন, ‘জেরুজালেমকে সারা বিশ্বের খ্রিস্টান ও মুসলিমরা সবচেয়ে পবিত্র, আধ্যাত্মিক ও জাতীয় ঐতিহ্যের কেন্দ্র হিসেবে বিচার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সবার জন্যই অপমানজনক।’

৬ ডিসেম্বর হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা দেন। একইসাথে ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের নির্দেশও দেন।

এ ঘোষণার প্রতিবাদে পুরো বিশ্বে বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বাহিনীর সাথে ফিলিস্তিনিদের রক্তাক্ত সংঘর্ষ হয়। এরপরের দিনই উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করে পোপ ফ্রান্সিস বিবৃতি দিয়েছিলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে আমি চুপ থাকতে পারি না।’ তিনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ইস্যুতে জাতিসংঘের আইন মেনে চলার আহবানও জানান।

উল্লেখ্য, জেরুজালেম মুসলমান, ইহুদি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য পবিত্র স্থান। জেরুজালেমের বেথেলহেমেই জন্মগ্রহণ করেন খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তক যিশু খ্রিস্ট। এখানেই রয়েছে মুসলমানদের প্রথম কেবলা ও তৃতীয় পবিত্র মসজিদ আল আকসা। রয়েছে ইহুদিদের পবিত্র দেয়াল।

ইসরায়েল দখলকৃত পুরো জেরুজালেমকে নিজেদের বলে দাবি করে এবং ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজধানী করতে চায়।

ট্রাম্পের ঘোষণার পর এর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের উদ্যোগ নিয়েছিল আরব দেশগুলো। জেরুজালেম প্রশ্নে যেকোনও সিদ্ধান্ত কার্যকরের আইনি বৈধতা না দিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ওই প্রস্তাব তোলা হয়। তবে প্রস্তাবটি পাসের পক্ষে পরিষদের ১৪ সদস্যের সমর্থন থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে ভেটো দেয়। পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটি বিপুল ব্যবধানে পাস হয়।

বেআ/আবে

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর