লিড নিউজ, সিলেট প্রতিক্ষণ



রেদ্বওয়ান মাহমুদ

5 December 2020, 2:24 PM




জকিগঞ্জে জমজমাট সুপারির হাট

জকিগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতে এখন পাকা সুপারির স্তুপ। সিদুর রঙা সুপারির আগুনে রূপ চোখ জুড়িয়ে যায় সহজেই। তারচেয়েও বর্ণময় যেন বিক্রেতার মুখ। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হলেও এবার দাম ভালো পাচ্ছেন তারা। ক্ষেত্র বিশেষে দ্বিগুণ। ফলে খুশির আমেজ উপজেলা জুড়ে।

ধানের পরই জকিগঞ্জ উপজেলা বাসীর আয়ের বড় উৎস এই সুপারি। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত প্রবাদই আছেÑ’বাঁশ মাছ সুপারি-জকিগঞ্জের বেটাগিরি, মাছ সুপারি ধান-জকিগঞ্জের প্রাণ’। সাধারণত অক্টোবর মাস থেকে এখানে সুপারীর বাজার জমে উঠে। হাট বাজারের বড় অংশ দখলে থাকে সুপারি ব্যবসায়ীদের। সিলেটের অন্যান্য উপজেলার পাশাপাশি সিলেটের বাইরেও জকিগঞ্জের সুপারির কদর বেশ। যদিও গত বছরের তুলনায় এবার সুপারির ফলন কম হয়েছে। তবে দাম ভালো থাকায় তারা স্বস্তিতে আছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জকিগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সুপারির প্রতি ‘ভি’ ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা অন্যান্য বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ১১টি সুপারি মিলে এক ‘ঘা’ হয়। আবার ৪০ ‘ঘা’তে হয় এক ‘ভি’।

তবে ক্রেতারাও দাম বেশি হওয়ায় কিনছেন কম। তারা অপেক্ষায় আছেন যদি শেষের দিকে দাম পড়ে তাহলে কেনা শুরু করবেন। সুপারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য মতে ১১টি সুপারি মিলে এক ‘ঘা’ হয়। আবার ৪০ ‘ঘা’তে হয় এক ‘ভি’।

উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারের সুপারি বিক্রেতা আব্দুল হক দেশদর্পণকে বলেন, ‘এ বছর সুপারির ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হয়েছে।’ স্থানীয় সুলতানপুরের বাসিন্দা আব্দুল হামিদের অভিযোগ, ‘মোবাইল টাওয়ার দিন দিন সুপারির উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। কারণ মোবাইল টাওয়ার থেকে নির্গত ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন (ইএমআর) গঠিত ইলেক্ট্রো স্মোগ সুপারির উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।’

জকিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলছেন, ‘এখানকার মাটি অন্যান্য এলাকার তুলনায় সুপারি চাষের জন্য অধিক উপযোগী। তবে উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরও সচেতনতা তৈরি করা গেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব।’

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর